আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য বিডিএফের ‘করোনা কেয়ার সেন্টার’

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও এ রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য করোনা কেয়ার সেন্টার তৈরি করেছে চিকিৎসকদের অধিকার আদায় ও সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)।এর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিডিএফের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. নিরুপম দাশ।

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য বিডিএফ’র পক্ষ থেকে করোনা কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এ সেন্টারে কাজ শুরু হবে। এরই মধ্যে লোকবল নিয়োগসহ সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হবে। ১০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ৪ বেডের আইসিইউ থাকবে।

ডা. নিরুপম দাশ বলেন, ‘আমরা সাময়িকভাবে রাজধানীর শ্যামলী কলেজ গেইটের পাশে একটি জায়গা নিয়েছি। করোনা পরবর্তীতে জায়গাটির মালিকানা আবার আগের মালিকদের ফিরিয়ে দেয়া হবে। করোনা কেয়ার সেন্টারের পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য একটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে কথা বলছি। যদি এটা পেয়ে যাই, তাহলে সারাদেশের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকদেরকে এ সেবা দিতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, সারাদেশের চিকিৎসকদের জন্য বিডিএফের পক্ষ থেকে ১২টি নম্বরের একটি হটলাইন খোলা হয়েছে। কোথাও কোনো চিকিৎসক আক্রান্ত হলে এসব নম্বরে যোগাযোগ করবেন। এছাড়াও বিডিএফের ২০০ জনের একটি টিম সরকারের এটুআইয়ের সাথে কাজ করবেন। ৩৩৩ তে কল করলেই আপনারা চিকিৎসক সেবা পাবেন।

চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নিরুপম দাশ বলেন, ‘রোগীদেরকে অবশ্যই আমরা সেবা দেবো। তবে সেবা দিতে গিয়ে আমরা যেন নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলে না দেই। সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে যারা করোনার দায়িত্বে, শুধুমাত্র তারাই করোনা রোগী দেখবেন, অন্য কেউ নয়। এ সময়ে আউটডোরের রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে আউটডোরে ওষুধ সরবরাহ একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে গিয়ে ইতালিতে নতুন করে আরও পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে চিকিৎসকের মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। নিহত চিকিৎসকের মধ্যে তিনজন হলেন ক্রেমা হাসপাতালের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার, আরেকজন ক্রেমনা হাসপাতালের চিকিৎসক এবং অন্যজন বেরগামোর চিকিৎসক।

ইতালির গিম্বে হেলথ ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮.৩ ভাগ। হাতে গ্লাভস না পরাসহ সচেতনার অভাবে ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। এ দুঃসময়ে লকডাউনের সময়সীমা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়িয়েছে ইতালি সরকার।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৪৮ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৯৬৭ জন। সংক্রমণ শুরুর পায় দুই মাস পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইতালিতে প্রবেশ করে প্রাণঘাতী করোনা। এরপর মাত্র একমাসের মধ্যেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটি।

আপনার মতামত দিন :