করোনা প্রতিরোধে বান্দরবান মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নানা কর্মসূচি

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বান্দরবান মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন। শহরের বিভিন্ন স্থানজুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো এবং বার বার হাত ধোয়ানোসহ সঠিকভাবে হাত ধোয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া বান্দরবানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দেশের এই সংকটময় সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করছেন সংগঠটির সদস্যরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব  এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাজমুস সাকিব বলেন, বছরের এই সময়টিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পর্যটক মুখর হয়ে থাকে। জেলার নীলগিরি, নীলাচল, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলাসহ সবগুলো সবজায়গা পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে এবছর পুরোই ভিন্নরুপ বান্দরবানে। এ অব্স্থায় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া বান্দরবানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বান্দরবান মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’ সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বান্দরবান সদরের পাশাপাশি লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচিতেও জনসচেতনতায় কাজ করছি।

তিনি বলেন, বান্দরবানবাসী শুরুতে করোনা নিয়ে শঙ্কিত থাকলেও আমাদের প্রচেষ্টায় তারা করোনাকে জয় করার মনোবল ফিরে পাচ্ছে, সবাই যার যার বাসায় অবস্থানের ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনও কমে আসছে।

জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আন্তঃ সমন্বয়ে বান্দরবান জেলার মেডিক্যাল স্টুডেন্টরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও যুব রেড ক্রিসেন্ট বান্দরবান, বান্দরবান স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিডি ক্লিন বান্দরবান, বান্দরবান মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বান্দরবানের সিভিল সার্জন জনাব অংশৈপ্রু বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বান্দরবান মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের কার্যক্রম ইতিবাচক। মানুষ তাদের শেখানো পদ্ধতিগুলো সাদরে গ্রহণ করছে। করোনা মোকাবেলায় সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিট খোলা হয়েছে, ইতোমধ্যে সেখানে ৭ জন আইসোলেশনে রয়েছেন, এছাড়াও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে ৬৭ জন কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন।

আইইডিসিআরের তথ্য মতে, কোভিড-১৯ এর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ছিলো চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

আপনার মতামত দিন :