কোয়ারেন্টাইন না মেনে পরিবারকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো?

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীতে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। আইইডিসিআর’র তথ্য অনুযায়ী করোনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ইতোমধ্যেই ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বাসে-ট্রেনে গাদাগাদি করে বাড়ি যাওয়া এবং সেখানে কোয়ারেন্টাইন না মেনে হাঁটে-বাজারে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে উল্টো চিত্রটিরই মঞ্চায়ন হচ্ছে। এতে বাড়ছে করোনাভাইরাস কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁকি।

এই অবস্থাকে ভয়ানক বলে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, সরকার ১০ দিনের ছুটি দিয়েছে ঘরে বসে থাকার জন্য। কিন্তু মানুষ কোয়ারেন্টাইন না মেনে নিজের অজান্তেই নিজের মা-বাবা, পরিবার-পরিজন এমনকি গোটা দেশকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন, যা গোটা দেশ ও জাতির জন্যই অশনি সংকেত।

জানতে চাইলে দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সরকার ছুটি দিয়েছে মূলত ঘরে বসে থাকার জন্য। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলো, এই ছুটিতে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে প্রচুর লোকজন শহর ছেড়েছে। তারা এমন গাদাগাদি করে ঢাকা ছেড়েছে, কার মাধ্যমে কার শরীরে যে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে, সেটা বলার কোনো সুযোগ নাই। ব্যাপারটা আমাদের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইতিমধ্যেই তারা ঝুঁকি নিয়ে চলে গেছে, এখন তো আর কিছুই বলার নাই। কিন্তু যারা এভাবে বাড়িতে গেলেন, তাদের দায়িত্ব হলো নিজ দায়িত্বে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা। নিজেকে বাঁচানোর জন্য, নিজের বাবা-মা, পরিবারকে বাঁচানোর জন্য আপনাকে ঘরে আবদ্ধ থাকতেই হবে। আর ঢাকাতেও যারা আছেন, তারাও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। সরকার আপনাকে ছুটি দিয়েছে আপনাদের সুরক্ষার জন্য, দেশের সুরক্ষার জন্য, কিন্তু আপনাদের ভূলের কারণে যেন দেশটাই অরক্ষিত হয়ে না পড়ে।’

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ৃয়া  বলেন, ‘সরকার লকডাউন করেছে যেন মানুষ ঘর থেকে বের না হয়। কিন্তু ১০ দিনের ছুটি পেয়ে মানুষ যেভাবে ঈদের আমেজে বাড়িতে গেলো, এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার, যা আমাদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে আসতে পারে। তবে যা হবার হয়ে গেছে, এখন আমাদেরকে বিষয়টা নিয়ে আরো সাবধানী হতে হবে। কিছুতেই যেন এই ঢাকা ফেরতরা সংঘবদ্ধ না হয়।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রণের ঝুঁকি নিয়ে যারা এভাবে ট্রেনে, বাসে করে বাড়িতে গিয়েছে, সবাইকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। নয়তো কার থেকে আবার কার মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়ে যাবে, আমরা ভাবতেও পারবো না। এক কথায় করোনাভাইরাস আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এ মুহূর্তে কারো মধ্যে যদি কোনো ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, সাথে সাথেই আইইডিসিআরকে জানাতে হবে। কোনোভাবেই এটাকে লুকিয়ে রাখা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই হয়তো লোক লজ্জা বা ভয়ে বলতে চাইবে না, কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয়। যেখানে কোনো কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, সেখানে আপনার এটা হতেই পারে। তাই ভয় বা লজ্জা ভেঙে সাথে সাথেই চিকিৎসা নিতে হবে। নয়তো নিজেদেরই একটা ভয়াবহ অবস্থায় পড়তে হবে। আর এ ভয়াবহতা আপনার বয়স্ক বাবা-মা বা পরিবার-পরিজন থেকেই শুরু হতে পারে। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’

এ বিষয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাসূলের (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা আছে যে, কোন ধরনের বালা-মুসিবত বা রোগ-ব্যাধি আসলে এর থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা মেনে চলতে হবে। যেকোনো রোগ বালাইয়ে চিকিৎসা নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, হাত-পা, ঘরবাড়ি, আসবাপত্র জীবাণুমুক্ত রাখা-এই কাজগুলো করা তো আমাদের দায়িত্ব। কারণ এটা ইসলামের নির্দেশ, রাসূল (স.) এসব ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সচেতনতার পাশাপাশি এইসব রোগবালাই থেকে, জীবাণু বা ভাইরাস থেকে যেন আমরা মুক্ত থাকতে পারি-সেজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, আল্লাহ রহমত কামনা করা উচিত। এর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যে, আমাদের কোনো ভুলের কারণে যদি এসব আযাবের ফায়সালা হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যেন আমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেন। একদিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, আরেকদিকে বাহ্যিকভাবে সচেতন থাকা, ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া-দুটোই একসাথে চালিয়ে যেতে হবে। এটাই হচ্ছে শরীয়তের মূল বক্তব্য।’

আপনার মতামত দিন :