ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য পরিবহন সেবা চালু

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে হাসপাতালে আনা-নেওয়ার জন্য পরিবহন সেবা চালু করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালযয়ের (বিএসএমএমইউ) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তপাদার বলেন, বিএসএমএমইউতে আমাদের যে নিজস্ব পরিবহন আছে, সেগুলো দিয়েই আমরা চিকিৎসক, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের আনা নেওয়ার কাজ করছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত রোস্টারের মাধ্যমে আমাদের পরিবহনগুলো চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের বাসা থেকে নিয়ে আসছে এবং বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল:

করোনাভাইরাস মহামারীতে গণপরিবহন সংকটে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন সেবা চালু করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ছুটির দিনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত সকল চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগনের যাতায়াতের জন্য জনপ্রশাসনের দুটি বাস পূর্বের ন্যায় দুটি রুটে যাতায়াত করবে। ইতিপূর্বে এসএমএসকৃত সময়সূচী আংশিক সংশোধন পূর্বক বিআরটিসির নতুন ৪টি রুটে ৪টি দ্বিতল বাস ৩ শিফটে চলাচল করবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল:

দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে পরিবহন সংকটে পড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পরিবহন সেবা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা, সেবিকা/সেবক ও কর্মচারীগণকে যাতায়াতের জন্য ৪টি রুটে গাড়ী যাতায়াত করবে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতাল:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়ায় সংকটে পড়া চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পরিবহন সেবা চালু করেছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের ( কোভিড-১৯ ) প্রাদুর্ভাব রোধ ও রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য সরকারি নির্দেশনানুযায়ী স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকার চিকিৎসক, নার্স কর্মকর্তা/কর্মচারিদের আনা নেয়ার জন্য ২৯ মার্চ হতে নিম্নে বর্ণিত সময়সূচি ও রুট সমূহে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চলাচল করছে।

এ বিষয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এম ইকবাল আর্সলান বলেন, চিকিৎসকদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সচেতন। কিন্ত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। চলাচলকারী চিকিৎসাকর্মীরা যাতে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী দ্বারা হয়রানির শিকার না হন সেজন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করেছি, তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আপনাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের স্থানীয়ভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছি।

পরিবহন সংকট প্রসঙ্গে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমার হাসপাতালে যেসব চিকিৎসক রোস্টারের মাধ্যমে ডিউটি করছেন, তাদেরকে আমি বলে দিয়েছি ডিউটি শেষে পরিচালকের রুমে এসে জড়ো হতে। পরে এখান থেকে সবাইকে হাসপাতালের উদ্যোগেই বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। আর যারা আশপাশে থাকেন, তাদের যাওয়া আসার সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবুও যাদের সমস্যা হয়, তারা যদি পরিচালকের অফিসে এসে যোগাযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই এটা আমরা দেখবো। আর যারা দূরে থাকেন, তাদের জন্য আমার হাসপাতালের ট্রান্সপোর্ট রেডি আছে। ডিউটি শেষে তারা একসাথে আসলে তাদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।

তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসকরা জীবনবাজি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে, এর মধ্যে কোন কোন জায়গায় চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ব্যাপারটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এ মুহূর্তে একজন সেবা দানকারী সে যদি তার পরিচয় দেয়, তাহলে তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উচিত তাকে আরো সহায়তা করা। জাতির ক্রান্তিলগ্নে যদি তারা সার্ভিস দিতে গিয়ে সহায়তার বিপরীতে লাঞ্ছিত হয়, তাহলে তারা সার্ভিস দিবে কিভাবে? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এমুহূর্তে কাজ করছে, কোথায় আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করবো, তা না করে উল্টো যদি তাদের বাধাগ্রস্ত করা হয় তাহলে তো ব্যাপারটা খুবই খারাপ হয়ে যায়। সকলেই তো জীবনের মায়া আছে। এই সময়টা তো একটা যুদ্ধের মতো, যেকোন সময়েই তার প্রাণ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ডেঙ্গুর চেয়ে তো এই রোগটা মারাত্মক। সুতরাং এ মুহূর্তে এ ধরনের কাজ খুবই নিন্দনীয়। কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি এমনটা করে থাকে, তাহলে তারা অন্যায় করেছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, এই সময়ে ডাক্তারদেরকে সহায়তা করার জন্য।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ খান বলেন, দেশে করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছে ডাক্তাররা। এই মুহূর্তে সবার উচিত হবে ডাক্তারদেরকে সহযোগিতা করা বা কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়া। তারপরও মাঝেমধ্যে আমাদের দেশে কোথায় যে কি হয়ে যায়, সেটা আমার বুঝে আসে না। বলা যায় যে, যেটা হওয়ার কথা নয়, সেটাই হয়ে যায়। সেটা আমাদের কারো জন্যই কাম্য নয়। সবাই জানে যে, চিকিৎসকরা এ মুহূর্তে কিভাবে কাজ করছে, তারা দেশের জন্য জীবনকে বাজি রাখছেন। সবার প্রতি আমার অনুরোধ, চিকিৎসকদের সহায়তা করুন।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে ডা. আবুল কালাম আজাদ খান বলেন, আপনাদের যদি সুযোগ থাকে, আমার একজন ডাক্তার যদি কর্মস্থলে বা ডিউটি শেষ করে যেতে না পারে, তাহলে তাকে একটু সহযোগিতা করে সেখানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দিবেন। কারণ একজন ডাক্তার যদি হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে তিনি অনেক মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসকরা। অন্তত ১০জন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে ফোনে জানিয়েছেন, সারা দেশ লকডাউন হলেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের কোন ছুটি না থাকায় রোস্টার করে ডিউটি পালন করছে চিকিৎসকরা। এই মুহূর্তে পরিবহন সংকটের কারণে হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। এমনকি আশেপাশের খাবার হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটেও পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে চিকিৎসকদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত দিন :