সামরিক খাতে যতটা বরাদ্ধ, স্বাস্থ্যখাতে তার কতোটুকু রাখি?

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

সারা পৃথিবীতেই ডাক্তাররা এক অনিশ্চয়তা আর জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মাঝে গতকাল ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ পালন করেছেন। সারা বিশ্বেই ডাক্তাররা সরকারের কাছে যেভাবে আশা করছেন, সেভাবে নিরাপত্তা পাচ্ছেনা। কিভাবে পাবে? আমেরিকা যতটা ব্যস্ত অস্ত্র তৈরিতে কিংবা সামরিক খাতে, তার সিকি ভাগও কি বরাদ্ধ রাখে স্বাস্থ্যখাতে?

ব্রিটিশ পলিসিমেকার তো NHS কে প্রায় ভগ্নদশায় নিয়ে গেছে! আমরাও যতটা বরাদ্ধ রাখি সামরিক খাতে কিংবা জনপ্রশাসন খাতে, তার কতটুকু রাখি স্বাস্থ্যখাতে?

পুরো পৃথিবীতে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যখন চরম অবহেলা তখন এর মাশুল তো দিতেই হবে। এবং সারা বিশ্বই দিচ্ছে, বাদ যাচ্ছেনা একটি দেশও।

আমাদের দেশে একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে, পিপিই দরকার বেশী কাদের? প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাকি স্বাস্থ্যকর্মীদের? কি হাস্যকর বিষয়! কোথায় একজন ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধা, যারা কিনা প্রতিদিন হাসপাতালে আসা হাজার রোগীর সংস্পর্শে আসে, তাদের দরকার নাকি যারা কেবল দূর থেকে মানুষজনকে বাড়ী যেতে বলবেন তাদের দরকার? একজন ডাক্তারের পক্ষে দূর থেকে রোগী দেখা সম্ভব নয় এটা জীবনে যে একবার হলেও ডাক্তারের সেবা নিয়েছেন, সেই জানে।

অন্যান্য দেশগুলোতে এই হাস্যকর বিষয়ে তর্ক না থাকলেও পিপিই এর অপ্রতুলতা আছে সব দেশেই।

বলা হচ্ছে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে আছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাই বলে এতো কিছুর পরও ডাক্তাররা থেমে নেই তাদের সেবা দেয়ার জায়গা হতে। প্রতিদিন প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালগুলোতে যুক্ত হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে।

আমাদের দেশও মানুষ বেঁচে আছে আপনারা আছেন বলেই…। আপনাদের এই মুহূর্তের সেবা আমাদের খুব দরকার। অনেক ডাক্তারই যে যেভাবে পারছে, সেবা দিচ্ছে। ফেসবুকে নিজেদের নাম্বার তুলে দিয়ে কিংবা কোন প্লাটফর্মের সাথে যুক্ত হয়ে। কেউ কেউ ডক্টর’স অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন এবং সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন কে কখন কোন বিষয়ে সরাসরি যুক্ত হবেন মানুষজনের সাথে।

ফেসবুকে আপনাদের এভাবে এগিয়ে আসার বিষয়টি সত্যি ভালো লাগছে। আসুন আমরা সারাক্ষণ সমালোচনা না করে ভালো কাজকে অভিনন্দিত করতে শিখি। তাতে সেবক সম্প্রদায় উৎসাহিত হবে, এই মুহূর্তে তাদের উৎসাহিত করতে না পারলে সঠিক সেবা আপনি/ আমি পাবনা। সারাবিশ্বই উৎসাহিত করছে, আমরাও করতে শিখি।

জাতির ক্রান্তিলগ্নে আসলে এখন ঘরে বসেই যুদ্ধটা করে যেতে হবে। হয়তো আর কিছুদিন… অতএব ভালো খবর গুলো তুলে ধরতে হবে যেন আতঙ্ক না ছড়িয়ে বরং সচেতন হয়ে উঠে মানুষ। যে কোনো প্রয়োজনে অনলাইনে ডাক্তারদের সাথে যুক্ত হউন, ভালো থাকুন। পৃথিবীর সকল ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যারা আজ যুদ্ধ করছেন করোনার বিরুদ্ধে।

(বৃটেন থেকে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও টিভি ব্যক্তিত্ব রাশেদা রওনক খান।)

আপনার মতামত দিন :