ঢামেক পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু, ৩ ঘণ্টায় ফল

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পিসিআর ল্যাবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয়বহুল এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যেমে দেহে করোনার উপসর্গ থাকা রোগীরা তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফল জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ এপ্রিল)  এ তথ্য জানিয়েছেন ঢামেক অধ্যক্ষ ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ।

ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, আজ থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজে রোগীদের করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে আগেই পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। পিসিআর মেশিনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে ডিজি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) অফিস। ওখান থেকে এক্সপার্টরা আসছেন, ওনারা এটা দেখছেন। ভাইরোলজিস্ট ও জীবাণু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টিম গঠন করে এ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কীটের সহজলভ্যতার উপর নির্ভর করবে আমরা দিনে কতজনকে টেস্ট করতে পারবো।

স্যম্পল কালেকশনের পদ্ধতি কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্যম্পল কালেকশনের জন্য রোগীদের এখানে আসতে হবে না। হাসপাতালের ওয়ার্ডে যে যেখানে ভর্তি থাকবেন, সেখান থেকেই তার স্যাম্পলটা কালেকশন করে নিয়ে আসবেন। বাহিরের রোগীরাও কি এসে পরীক্ষা করাতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা শুধুমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য। যারা এখানে আসবেন, তাদেরই পরীক্ষা করা হবে। এখান থেকে কারো রিপোর্ট পজেটিভ আসলে সে সরকার নির্ধারিত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন বলেন, করোনা টেস্ট খুবই ব্যয়বহুল। তবে এ পরীক্ষা যেন সহজেই এবং বিনামূল্যে করা যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন। তবে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাই এখানে করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

ঢামেক হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না। তাই আর সব সাধারণ ব্যক্তিদের মতোই জীবন যাপন করে। এতে ভাইরাসটি কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া প্রায় সব দেশেই শুরুর দিকে সবার পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই যাদের হালকা উপসর্গ থাকে, তাদেরও আইসোলেশনে থাকতে হবে। তারা নিজেদের সচেতন রেখে চলবেন। আর আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে যাতে সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে না ছড়ায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে খুব সচেতন থাকতে হবে। তবেই আমরা করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারবো।

তিনি বলেন, এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের শরীরে করোনাভাইরাস আছে, কিন্তু কোন ধরণের লক্ষণ নেই। কেননা তাই যাদের এ ধরণের কিছু লক্ষণ আছে তারা অবশ্যই বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টিনে থাবেন। তাছাড়া যাদের বিভিন্ন রোগ রয়েছে যেমন- ডায়াবিটিস, হৃদরোগ, উচ্চ-রক্তচাপ, ফুসফুসের সমস্যা, কিডনির জটিলতা, তাদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস বেশিরভাগ সময় প্রাণঘাতী হতে পারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরো কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারে? এমন প্রশ্নে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর সুযোগ পাবে, ততদিন পর্যন্ত এ ভাইরাস খুব দ্রুত সংক্রমণ ঘটাবে।  তাছাড়া এ ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক, সুযোগ দিলে ছড়াতে থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে গত মাসের ৮ তারিখে। বুধবার পর্যন্ত ৫৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ জন। মারা গেছেন ৬ জন।

আপনার মতামত দিন :