নানা সংকটে আটকে আছে ঢামেকের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২০

কিট সংকট, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব ও নতুন সেফটি ক্যাবিনেট স্থাপনসহ নানা জটিলতায় আটকে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণ পরীক্ষার কার্যক্রম। ফলে বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঢামেকের পিসিআর ল্যাব এখনো প্রস্তুত হয়নি। আমরা ভেবেছি, আগের ক্যাবিনেটটি সচল রয়েছে, কিন্তু সেটা সার্টিফাই করে দেখলাম এর ফিল্টার নষ্ট, পুরো বায়োসেফটি লেভেল দেওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন নতুন করে আরেকটি ক্যাবিনেট স্থাপনের কাজ চলছে, আগামীকাল তা স্থাপন করা হবে। তবে শনিবারের আগে পরীক্ষা শুরু করার কোনো সুযোগ নেই।’

অধ্যাপক সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘ক্যাবিনেট স্থাপনের পর তা বায়োল্যাব সার্টিফাইড করতে হয়। বাংলাদেশে যে কোম্পানি এ নিয়ে কাজ করছে, তারা বর্তমানে কক্সবাজারে কাজ করছে। সেখান থেকে তারা ঢাকায় ফেরার পর আগামী শুক্রবার আমাদের এখানে কাজ করবেন।  আশা করি আগামী শনিবার থেকে আমাদের পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

এছাড়াও কিট সংকটের কথা তুলে ধরে ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত কিট নেই। সরকার থেকে আমাদেরকে কোনো কিট প্রদান করা হয়নি। আমার জানা মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও (বিএসএমএমইউ) তাদের নিজস্ব কিট ব্যবহার করছে। সরকার যদি তাদের দিয়েও থাকে…, আমরা কিন্তু পাইনি। আমরা যখন চেয়েছি, তখন হয়তো সরকারের সরবরাহ ছিল না। কিন্তু আমাদের মাননীয় পরিচালক আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কিটসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি কিনে এবং সংগ্রহ করে দিচ্ছেন। কিটের সংকট দূর করার জন্য আমরা বিকল্প চিন্তা করে রেখেছি। সরকারের তরফ থেকে সরবরাহ করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমরা বাইরে থেকে কিনে নেবো। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন শনিবারই পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারি।’

অধ্যাপক সুলতানা শাহানা বানু বলেন, কিট নিয়ে দেশে একটা সমস্যা হচ্ছে। একেক প্রতিষ্ঠান একেক ধরনের কিট ব্যবহার করছে। কিন্তু সকলকে একই ধরনের কিট ব্যবহার করা উচিত। ইতিমধ্যে অনেক ফলস নেগেটিভ ফল পাওয়া যাচ্ছে। কেন নেগেটিভ ফল আসছে তা ধারণা করা যাচ্ছে, কিন্তু হাতে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় আপাতত তা নিয়ে কথা বলা যাচ্ছে না। এ রকম বিভিন্ন কারণে এক ধরনের কিট ব্যবহারের বিকল্প নাই। তাহলে ফলাফলটা তুলনা করা যাবে।

জনবল সংকটের ব্যাপারে ঢামেক অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের যে জনবল আছে, তা দিয়েই চলতো। কিন্তু তারা তো প্রশিক্ষিত না। আমাদের প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট রয়েছে। আমরা যদি আরো প্রশিক্ষিত জনবল পাই, তাহলে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারবো। কিন্তু এ মুহূর্তে যারা মোটামুটি পিসিআর জানেন, তাদেরকে আমরা আইইডিসিআরে পাঠিয়ে। ইতোমধ্যেই কিছুটা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তারা অনেকেই কিছু কাজ জানে, তবুও এই টেস্টে যাতে করে কোনো ধরনের ভুল না হয়, সেজন্য তাদেরকে আমরা পাঠিয়েছি যেন তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ভালো করে শিখে আসে। তারা আমাদের এখানে এসে যখন কাজ করবে, তখন তাদের থেকে দেখে দেখে অন্যরা শিখবে, এটাই হলো বর্তমানে আমাদের একমাত্র ভরসা।’

জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন বলেন, কেউ চাইলেই এখানে করোনা পরীক্ষা করতে পারবে না।  আমরা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গগুলো আছে, তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। ওই সময় তাদের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে আলাদা করা হবে। এছাড়া আউটডোরে যেসব রোগীকে চিকিৎসক করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেবেন তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ গণহারে পরীক্ষা করা হবে না। যাদের পরীক্ষা করা হবে তাদের কারো মধ্যে যদি করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হবে।

পরীক্ষার ফির বিষয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করতে দুই হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। তবে সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ পরীক্ষা ফ্রিতে করার নির্দেশনা দিয়েছে। সেহেতু ঢাকা মেডিকেলেও কোনো ফি নেওয়া হবে না।

এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জন। দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬ জনে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে কোভিড-১৯ । এপর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন বিশ্বের ২০৩টি দেশ। করোনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৪০ হাজার ৬৯৮ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৭২ জন মানুষ।

আপনার মতামত দিন :