ইন্টার্নদের নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে যা বললেন মমেক পরিচালক

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০

ময়মনসিংহ মেডিকেলের (এম-৫২ ব্যাচের) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন আহমেদ।

অসুস্থতাজানিত কারণে এখনও ছুটিতে থাকা মমেকহা পরিচালক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইকে এক পোস্টে বলেন, ‘আমার বর্তমানে বা অবর্তমানে যে চিঠি বা নোটিশ দেয়া হয় তার সম্পূর্ণ দায় আমার। ক্ষমা ও বিনয় আল্লাহর কাছে প্রিয়। এম-৫২ ব্যাচের সদ্য পাস করা ডাক্তারদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ’

‘জরুরি বার্তা’ শিরোনামে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন আহমেদের পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

আমি এখনও ছুটিতে। আমার বর্তমানে বা অবর্তমানে যে চিঠি বা নোটিশ দেয়া হয় তার সম্পূর্ণ দায় আমার।

শব্দ চয়নে ভুল বা কাঠিন্য অনেক সময় পরিস্থিতির বিবেচনায় বাড়াবাড়ি মনে হয় এবং এতে অনেকেই আঘাত প্রাপ্ত হয়ে যায়।

সম্প্রতি সদ্য পাস করা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা এম-৫২ ব্যাচের ডাক্তারদের ২৫ মার্চ যোগদানের জন্য সকল কাগজপত্র নিয়ে রিপোর্টে করার কথা ছিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আমি অসুস্থতার মধ্যে ১ এপ্রিল অফিসে গিয়ে জানতে পারি তারা যোগদান করেননি। কেন করেননি চিপ ইন্টানর্ন কোর্ডিনেটর আমাকে বা প্রশাসনের কাউকে জানায়নি। কেন যোগদান করেনি প্রশাসনের কেউ আমাকে বলতে পারেনি।

যোগদানের চিঠির ব্যাপারে আমাকে জানানো হয়নি। সদ্য পাস করা একজন চিকিৎসক যোগদান করেছেন বলে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ই-মেইল করেন।

এদিকে নির্দেশনা আছে সবাই যেন কর্মস্থলে থাকে। আমরা প্রশাসন একটা ভারসাম্যমূলক অবস্থা বজায় রেখে হাসপাতাল চালাই।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেখানে জেলা প্রশাসন, ডিজিএফআই, আাইন শৃঙ্খলা বাহিনী, এনএসআই সবাইকেই বর্তমান পরিস্থিতে জানানোর বাধ্যবাধকতা আছে। শুধু স্বমন্বয়ের জন্য।

আমার প্রতিষ্ঠানে আমার বর্তমানে বা অবর্তমানে সব চিঠি বা দালিলিক যোগাযোগে শব্দ চয়নে কেউ আঘাত পেলে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আল্লাহ ভীরু মানুষ হিসেবে সব দায় আমার।

ক্ষমা ও বিনয় আল্লাহর কাছে প্রিয়। এম-৫২ ব্যচের সদ্য পাস করা ডাক্তারদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার প্রশাসনিক অফিসের সকল ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমার জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে যা সংগঠিত হয়েছে, আমি সকল দায় মাথা পেতে নিচ্ছি।

কিন্তু তোমাদের দায়িত্ব ছিল সমস্যাগুলো এসএমএস, টেলিফোনে বা ই-মেইলে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বা অফিসকে জানানো।

আমি এই ৪ বছর ৫ মাসে সাধ্যের মধ্যে হাসপাতালের সকল কল্যাণ ও নিরাপত্তা সবার নিশ্চিত করেছি।

যে সকল সন্মানিত ডাক্তার খাবার খেতে হোটেল পাচ্ছেন না তাদের খাবার, পেশাগত নিরাপত্তা নিজে অনেক কষ্ট করে নিশ্চিত করার সম্ভব সাধ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা করছি। যদিও আমি পরিস্থিতির বিবেচনায় অসুস্থতা নিয়েই ময়মনসিংহে অবস্থান করছি।

মন্তব্য বা কমেন্ট করার অধিকার সবার আছে। তবে শালীনতা কাম্য। কারণ আমরা ডাক্তার। পৃথিবীর থ্যাংকলেস পেশার একটা। আরো দুটি পেশা আছে—পরিচ্ছনতাকর্মী এবং দিন মজুর।

করোন ভাইরাল ডিজিজের জন্য দেশের এ সংকটময় পরিস্থিতিতে নবীন ডাক্তারদের সাহায্য হাসপাতালের প্রয়োজন। তোমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠাতে হবে তোমাদের নিরাপত্তা ও রোগীর নিরাপত্তার জন্য।

আমি বিনয়ী কিন্তু দুর্বল মানসিকতার নই। অবশ্যই আল্লাহ বিনয়ী বান্দাকে তাঁর নৈকট্য দান করেবন। আমিন। তোমাদের হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে আমি হয়তো আর অল্পকিছু দিন থাকবো। দোয়া প্রার্থী।

বিনীত
পরিচালক
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপে যোগ না দেওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেলের ৫২তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সংক্রান্ত একটি চিঠি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ‘অতীব জরুরি’ সিল দিয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পেশাগত ফাইনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের (এম-৫২ ব্যাচ) ২০২০ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ তারিখের মধ্যে যোগদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যাচের কেউ যোগদানপত্র দাখিল করেনি বা যোগদান করেননি। এত সংখ্যক ইন্টার্ন চিকিৎসক একসঙ্গে যোগদান না করার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

তাই এম-৫২ ব্যাচের যেকোনো শিক্ষার্থীরা যেন কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ না পান, এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

যা বললেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা 

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। ৫৫-তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী করোনা সাসপেক্ট হওয়ায় গত ১৮ মার্চ এক নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করতে বলা হয়। অধ্যক্ষের নির্দেশে সবাই হল ত্যাগ করে। এ ব্যাপারে পরিচালক স্যার অবগত ছিলেন না। এছাড়া বিএমডিসির কিছু কাগজপত্র তারা তখনও হাতে পাননি। এসব কারণে সবাই বাড়ি চলে যায় এবং এর মধ্যে সারাদেশ লকডাউন হয়ে যায়। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের পক্ষে স্বাস্থ্য সেবায় যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘আজকে আমরা স্থানীয় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিচালক স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। এ সময় হল ছাড়ার বিষয়ে অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশনার বিষয়ে বলেছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএমএ ও স্বাচীপ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিল স্যার অফিসে আসবেন। তখন একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন বলে আশা করছি। বিষয়টি এখন মীমাংসিত বলা চলে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই ব্যাচের আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে ক্যাম্পাসগুলে বন্ধ হয়ে যায়। তখনও ইন্টার্ন হোস্টেলের অ্যাটলমেন্ট হয়নি। অন্যদিকে ১৮ তারিখের মধ্যে হোস্টেল খালি করে দেওয়ার নোটিস দেন অধ্যক্ষ স্যার। ফলে সকল মেয়েরা বাড়ি চলে যায়। এর মধ্যে লকডাউন হয়ে যায়। গত ২৬ তারিখে সবাইকে যোগদানের নোটিস করা হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে না থাকায় এ ব্যাপারে ইন্টার্নরা কিছুই জানতে পারেনি। এ কারণে তারা আসতে পারেনি। লকডাউন উঠে গেলেই তারা যোগদান করবে।

আপনার মতামত দিন :