করোনার চিকিৎসায় রেসপিরেটরী ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সকল রোগীর শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দেয় এবং আমরা যেহেতু নাক এবং মুখ দিয়ে নিশ্বাস-প্রশ্বাস করে থাকি তাই এই বাতাস ফুসফুসে যাবার রাস্তাগুলিকে আগেই নিরাপদ রাখা প্রয়োজন । আমরা শীত, বসন্ত এবং গৃষ্মকালে আমাদের আশপাশ রাস্তাগাট সবই শুকনো পাই । তাতে মাটি ধূলা-বালি বাতাসে উড়ে আমাদের নাক-মুখ দিয়ে ল্যারিঙস্, ফ্যারিঙস্, ট্রেন্যাকিয়া, ব্রঙ্কাস দিয়ে সরাসরি ফুসফুসে যাওয়ার সুযোগ পায় ।

করোনা ভাইরাস চোখে দেখা যায়না বিধায় আমাদের নাক ও মুখ একদম খোলা রাখা অথবা অনিরাপদ-অরক্ষিত রাখা উচিৎ নেয় । নাক এবং মুখ অবশ্যই মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে । শুধুমাত্র নাক এবং মুখ ঢাকলেই যে করোনা ভাইরাসকে বশে আনা যাবে তা নয় । আমাদের দু-হাত কেও অনুশাসনের রাখতে হবে । এই হাত দিয়েই আমরা যাবতীয় কাজ-কর্ম্ম করে থাকি । তাই এই হাত-দুটিকেও বশে রাখতে হলে নিরাপদ হাত-মোজা অথবা মেডিকেটেড হ্যান্ড গ্লাভস্ অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে । যেহেতু হাত বার বার কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেহেতু হাত আমাদের নাক মুখ বার বার স্পর্শ করতে হয় । তাই আমাদের হাতকে গুরুত্ব না দিলে শ্বাস-যন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব হবে না । ফলশ্রুতিতে হাত থেকে করোনা ভাইরাস নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাস-যন্ত্রের প্রতিটি অংশকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে আরও বৃদ্ধিলাভ করে পুরো শ্বাস-যন্ত্রকে বিকল করে দিতে সামান্যতম সময় নিবে না । পুরো শ্বাস-যন্ত্র একটা ভয়াবহ জড়তায় আক্রান্ত হয়ে ফুলে যায় এবং শ্বাস-নালীকে সংকুচিত করে যার কারণে ফুসফুসে বাতাস যাবার রাস্তা সরু বা চিকণ করে ফেলে । ফুসফুসে বাতাস যেতে না পারার কারণেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শ্বাস কষ্টের কারণেই দ্রুত মারা যায় ।
এই ক্ষেত্রে যখন আই সি ইউ-তে অথবা আইসোলেশন ওয়ার্ডে অথবা হাসপাতালের যেকোনও অংশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকবে, তখন হাসপাতালের সেই সমস্ত ক্ষেত্রে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারে । বাংলাদেশে চেষ্ট ফিজিওথেরাপি অথবা রেষ্পািরেটরী ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে সু-প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিষ্টগণ অতি দ্রুততম সময়ে এই রোগীর শ্বাস-যন্ত্রের সমস্যাকে লাঘব করে রোগীকে আরাম দিতে পারবে ।

উল্লেখিত ছবি গুলিতে আমি বিভিন্ন পজিশনে রোগীকে শুইয়ে চেষ্ট ফিজিওথেরাপি অথবা রেস্পাইরেটরী ফিজিওথেরাপির টেকনিকগুলি ব্যবহার করার ব্যাখ্যা দিয়েছি । স্টিক সময় সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করতে পারলে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি করোনা ভাইরাসের রোগী তার শ্বাস কষ্টের হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাবে । উল্লেখ না করলেই নয়, যেহেতু বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চেষ্ট-ফিজিওথেরাপিস্ট­-এর নিয়োগ নেই সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ডাক্তাররাও চেস্ট-ফিজিওথেরাপি বা রেস্পাইরেটরী থেরাপি সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত ।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনও হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে শুশ্রূষা দিতে সমস্ত বিভাগের কর্ম্মীদের সমন্বিতভাবে চিকিৎসায় সহযোগীতা করতে হবে । যার যার ক্ষেত্রে সে সেই কাজ করবে একজন মুমুর্ষ রোগীকে সুস্থ্য করে তুলার জন্য ।
উল্লেখিত ছবি গুলির নীচে বাংলায় আমি রোগীকে পজিশনিং করার ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছি । সম্মানীত ফিজিওতেরাপিষ্ট, আপনি একজন উপযুক্ত এবং অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক আজকের করোনা ভাইরাসকে নির্মুল করে অসুস্থ্য মানুষের উপকারের জন্য । এগিয়ে আসুন । সাবধান, নিজেকে বিপদ মুক্ত রেখে আর্ত মানবের বিপদ মুক্ত করুন । মনে রাখবেন, পরম করুণাময় আমাদের সহায় আছেন ।

গ্রন্থণা :

ডাঃ সিমসন কল্যাণ বাড়ৈ, পিটি ।

আপনার মতামত দিন :