গণস্বাস্থ্যের ল্যাব পরিদর্শনে প্রশাসন, কিট উৎপাদনে সরকারের অনুমোদন

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

ওমর ফারুক | স্টাফ রিপোর্টার :

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্তের তৈরি ও ল্যাবের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অনুমোদন দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে করোনাভাইরাস টেস্ট পদ্ধতির কর্মকাণ্ড পরিদর্শন এবং ল্যাবের সক্ষমতা স্বচক্ষে দেখার জন্য ওষুধ প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে যান। সেখানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সূত্রমতে, চীন থেকে রিএজেন্ট আসার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা রোববার থেকেই কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী দিন রাত সেখানে কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মেডিনিউজকে বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসনের বড় একটি টিম আজ এসেছিল। তারা আমাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমাদের সব কর্মকাণ্ডে তারা সমর্থন দিয়েছেন।আমরা আশাকরি নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ করতে পারবো।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে ১০ হাজার স্যাম্পল তৈরির কাজ সম্পন্ন করবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এবং ওইদিনই সরকারের হাতে কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তুলে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।এই মুহূর্তে তাদের ল্যাবের যে ক্ষমতা আছে, তাতে প্রতি মাসে এক লাখ স্যাম্পল তৈরি করতে পারবে তারা। অবশ্য এ জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন হবে ১০০ কেজি রিএজেন্ট।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মেডিনিউজকে বলেন, ‘চীন থেকে যে রিএজেন্ট এসেছে, তা দিয়ে আমরা ১০ হাজার স্যাম্পল তৈরি করতে পারব। কিন্তু আমাদের সক্ষমতা হলো প্রতি মাসে এক লাখ। এখন আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী স্যাম্পল তৈরি করতে চাইলে, চীন থেকে আরও রিএজেন্ট আমদানি করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এদিকে স্যাম্পল তৈরির পর পরীক্ষমূলক ব্যবহারের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিলো কোভিড-১৯ পজেটিভ পাঁচ ব্যক্তির পাঁচ শিশি রক্ত।ইতোমধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে।

উল্লেখ, কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতি আবিষ্কারের পর বাংলাদেশ ওষুধ প্রশসানের কাছ থেকে গত ১৮ মার্চ রিএজেন্ট আমদানির অনুমোদন পায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পরের দিনই ইংল্যান্ডের দ্যা নেটিভ অ্যান্টিজেন কোম্পানির (THE NATIVE ANTIGEN COMPANY) কাছ দশ প্রকারের ১০০ কেজি রিএজেন্ট আমদানির জন্য এলসি খোলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং দ্রুততার সঙ্গে রিএজেন্টগুলো সরবরাহের জন্য ইংল্যান্ডের ওই কোম্পানিকে তাগিদ দেয় তারা।

বিষয়টি গুরুত্ব উপলব্দি করে দ্যা নেটিভ অ্যান্টিজেন কোম্পানির (THE NATIVE ANTIGEN COMPANY) গত ২৫ মার্চের মধ্যে রিএজেন্টগুলো ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রথম দফায় একবার তারিখ পরিবর্তন করেন ইংল্যান্ডের কোম্পানিটি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তারা জানায়, কার্গো বিমানে ৩০ মার্চের মধ্যেই রিএজেন্টগুলো ঢাকায় পৌঁছে দেবে।

৩০ মার্চের মধ্যে রিএজেন্টগুলো হাতে পাওয়া যাবে এমন তথ্য মাথায় রেখে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা পুরো প্রস্তুতি নেন। বাংলাদেশের বাজারে থাকা প্রোডাক্টগুলো সংগ্রহ করে তারা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে কর্মরত এক্সপার্ট, সাধারণ কর্মী সবার ছুটি বাতিল করে দিন রাত চলতে থাকে কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির ফর্মুলা আপডেটের কাজ। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে চলে কর্মযজ্ঞ। আর অভিভাবক হিসেবে সবাইকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে যান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

কিন্তু ৩০ মার্চ বিকেলে ইংল্যান্ডের দ্যা নেটিভ অ্যান্টিজেন কোম্পানির (THE NATIVE ANTIGEN COMPANY) কাছ থেকে খবর আসে, আকাশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় রিএজেন্টগলো তারা পাঠাতে পারছে না। তবে তারা চেষ্টা করছে বিকল্প উপায়ে রিএজেন্টগুলো ঢাকায় পৌঁছাতে। সেক্ষেত্রে বিশ্বভিত্তিক ডাক পরিষেবা ফিডেক্স এক্সপ্রেস (FedEx Express)- এর প্রাইভেট কার্গো বিমানে করে রিএজেন্টগুলো ঢাকায় পাঠাবে ইংল্যান্ডের ওই কোম্পানি। কিন্ত সেটি তারা করতে পারেনি।

পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতীয় রাজস্ববোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ৫ এপ্রিল চীন থেকে দশ আইটেমের দশ কেজি রিএজেন্ট আনতে সক্ষম হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেই রিএজেন্ট দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞানিরা কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

আপনার মতামত দিন :