করোনা রোকরোনা রোগীদের তথ্য গোপনের কৌশলী ভূমিকায় ঘটবে ভয়াবহ বিপর্যয়!গীদের তথ্য গোপনের কৌশলী ভূমিকায় ঘটবে ভয়াবহ বিপর্যয়!

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

রোগীটা আজগর আলী হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিল।এক্সরেতে কনসোলিডেশান পাওয়া যায়। করোনা সন্দেহে রোগীর স্যাম্পল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়।

রোগী আজগর আলী হাসপাতাল থেকে DORB অর্থাৎ নিজ দায়িত্বে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ছাড়পত্র সংগ্রহ করে। পরে পেটে ব্যথার কথা বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সার্জারি ইউনিট-৫ এ ভর্তি হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা পেটে ব্যথার কারণ খুঁজতে তাকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

সেই রোগীকে দেখার পর চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে রাউন্ডও দেন।নির্দ্বিধায় দেখেন অন্য রোগীদের।তারপর এই রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়লে থলের বেড়াল বের হয়ে আসে।

কপটতার এখানেই শেষ নয়। নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী ওই রোগী ঢামেকহায় ভর্তি হয় পুরান ঢাকার ঠিকানা দিয়ে।

সে কোভিড-১৯ এ সাসপেকটেড কেস ছিল, তা লুকিয়েছিলেন। পরে যা রিপোর্ট পেয়ে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। তারপর এই রোগীকে কুয়েত মৈত্রী হাসাপাতালে রেফার করলে রাস্তায় মারা যান।

ফলাফল ডিএমসির সার্জারি ইউনিট-৫ লকডাউন।ইউনিট প্রধান থেকে শুরু করে সব চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়সহ ২১ জন কোয়ারেন্টাইনে।

তথ্য গোপনের এ রকম ভয়াবহ আচরণের পরিণাম—একটা ইউনিটের সব সেবা বন্ধ।

এভাবে যদি আমাদের দেশের মানুষ তথ্য গোপন করতে থাকেন তাহলে বিপর্যয়টা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ রূপ নিবে।

কোভিড-১৯ একটা ভাইরাসজনিত রোগ। এটা তো এইডস নয় যে মানুষকে লুকাতে হবে। এটাতো গোপন পাপ থেকেও হয় না। তবে কেন এত লুকোচুরি?

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক ব্যক্তি মারা গেলেন। তিনি কোভিড-১৯ কিনা তা নিশ্চিত নয়।

তাঁর লাশ বহন করার জন্য খাটিয়াটা দিল না মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

নারায়ণগঞ্জে একজন কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে সারারাত বাসার বাইরে পড়ে ছিল তাঁনার লাশ।এসব আচরণ কিন্ত সামাজিক অস্থিরতা ও বিপর্যয়ের হাতছানি দিচ্ছে।

আমি গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো—এ পরিস্থিতিতে তারা মানুষকে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে স্থবিরতা এনে দিয়েছে।মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো এই ভাইরাস থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং অন্যকে সংক্রমিত করা থেকে বিরত থাকার লক্ষ্যে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

তাই বলবো, ‘ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’

আমাদের দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৫ জেলায় তা ছড়িয়ে পড়েছে। রোগীর সংখ্যা ৪২৪, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে আপনি অযথা আতঙ্কিত হচ্ছেন কেন? একটা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় ৮০ ভাগ মানুষই কোনো চিকিৎসা ছাড়া শুধু আইসোলেশানে থেকেই সুস্থ হয়ে যাবেন।

আমাদের ভয় রিস্ক গ্রুপ নিয়ে। অর্থাৎ যারা বয়স্ক মানুষ, যারা ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশান, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত রোগ ও ক্যান্সারসহ নানা রোগে ভুগছেন এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারাই বেশি ঝুঁকিতে। সেই জন্য এই গ্রুপটা যেন কোনোভাবেই আক্রান্ত না হন সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন।

আমাদের দেশে কোভিড-১৯ এর জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) হলো ১১২টা।ঢাকা বিভাগে ৭৯, ময়মনসিংহে ২৬, খুলনায় ৫, সিলেট ২—এসব মিলিয়ে ১১২। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে কোনো আইসিইউই নাই।

তাহলে অবস্থাটা অনুমান করেন ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ ব্যাপকহারে আক্রান্ত হলে কিভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব যাবে?

সুতরাং এখন সময় সকল নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ করার। তাই আবারও বলবো, ‘সচেতন হতেই হবে। ঘরে থাকতেই হবে।’

শেষ কথা, করোনা ভাইরাসের এই যুদ্ধে সারা দুনিয়ায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নায়ক-মহানায়ক।

সব মানুষের ভুল ত্রুটি আছে।মানুষ হিসেবে তার মানবিক ত্রুটি থাকবে। কিন্ত এখন বিষোদগার করার, খোঁচানোর, কটু কথা বলার সময় নয়।

বরং এ দুর্যোগে সমরযোদ্ধাদের উৎসাহ দিন। অনুপ্রেরণা মূলক, কৃতজ্ঞতায় ঋদ্ধ শব্দচয়নে প্রচারণায় সাহস যোগান। এতে চিকিৎসকদের মনোবল বাড়বে।
উদ্যম নিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আপনার জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতে তারা লড়ে যাবেন আনন্দচিত্তে।।

এন্টি ইনফ্লুয়েঞ্জা এন্টিভাইরাল Favipiravir—যা এভিগ্যান নামে জাপানে পাওয়া যায় এবং Remdesivir এর পেইজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
চায়না ৩৪০ জন পেশেন্টকে এভিগ্যান দিয়েছিলো এবং তারা বলছেন Clearly effective.

এগুলো আশার কথা। ট্রায়াল শেষ হউক। USFDA এপ্রুভাল পাওয়ার পরেই আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবো।

ইথানল বাষ্প নিয়ে এই ভাইরাস মারা যাবে না। বরং ইরানে ৩০০ জন মানুষ ইথানল খেয়ে মারা গেছেন।

আপনারা নিজেরা চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী না সেজে চিকিৎসকরা যা বলছেন তা মেনে চলুন। এতেই আপনার পূর্ণ মঙ্গল নিহিত।

কিন্ত আপনি একজন সাধারণ নাগরিক হয়ে এসব নিয়ে না ভেবে খুব সহজ উপায়ে ঘরে নিরাপদে অবস্থান করে নিজে ও পরিবারকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

‘ঘরে থাকুন। নিরাপদ থাকুন’—এটাই এখন দেশের জন্য আপনার অবশ্য করণীয় দায়িত্ব।

ডা. জোবায়ের আহমেদ

চিকিৎসক,
মেডিকেয়ার অ্যান্ড প্যাথলজি সেন্টার

আপনার মতামত দিন :