শুধু ব্যাচেলর চিকিৎসক নয়, করোনা চিকিৎসায় অবদান রাখছে ডিপ্লোমা চিকিৎসকরাও

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০
রাকিব হাসান অভি  :
“কোভিড-১৯” চিকিৎসায় শুধু ব্যাচেলর চিকিৎসক এবং নার্স নয়, চিকিৎসার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট প্রাকটিশনার তথা “উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন।
যারা দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য  সংকটে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা  দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে।
শুধু চিকিৎসা সেবা নয় পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেছে বিভিন্ন সামাজিক সেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা প্রশাসনকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরন, টেলিমেডিসিন কার্যক্রম, রোগীদের হাসাপাতালে  আসলে হয়তো ছড়িয়ে যেতে পারে এই সংক্রামণ সেচিন্তা থেকে রোগীর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সহ নানান ধরনের সামাজিক কাজ করছে বঙ্গবন্ধুর এই স্বাস্থ্য সৈনিকেরা।
এসব কাজ ইতিমধ্যেই জনগণের কাছে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেশ প্রশংসা পেয়েছে।
ইতিমধ্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক “কভিড ১৯” এ আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন ইন্টার্ন ডিপ্লোমা চিকিৎসক সেচ্ছায় নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ দিন যাবৎ ডিউটি করার পর কিছুদিন আগে মৃত্যুবরন করেছেন গাজীপুরের মানবসেবক মরহুম সেলিম আকন্দ।
সবধরনের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও মৃত্যুর পর  নমুনার রিপোর্ট  নেগেটিভ এসেছে,যেহুতু মানবসেবা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরন করেছেন জনসাধারণের কাছে তিনি প্রথম শহীদ স্বাস্থ্যকর্মী।
বিভিন্ন হাসাপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষে মেডিকেল টিমের সাথে কাজ করছেন অসংখ্য ডিপ্লোমা চিকিৎসক।
“কভিড-১৯” ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষে শেখ রাসেল গ্যাষ্টোলিভার হাসপাতালে যোগদান করেছেন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রচুর সংকট দেখা দিলে বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রথম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা  অনুযায়ী মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল(ম্যাটস্) থেকে পাশকৃত মধ্যম মানের  চিকিৎসক তৈরি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে এসব পাশকৃত (ডি.এম.এফ) ডিগ্রীধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা, ব্যাচেলর চিকিৎসকদের সাথে  সারাবাংলাদেশে একযোগে কাজ করে চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন।
সারাবাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে হাজার হাজার “ডিপ্লোমা চিকিৎসকগন” উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট  হিসেবে প্রশংসার সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে  বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এনজিওর সাথে এই সংকটে সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন ম্যাটস্ এর অসংখ্য  ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
সারা বাংলাদেশ যখন করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক তখন রাঙ্গামাটিতে হাম রোগে মারা গেছে অন্তত ১০ জন শিশু,সেখানেও পৌছে গেছেন এই মানবসেবকরা,বেশ কয়েকদিন ধরে দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও হাম রোগ নিয়ে সচেতনতার তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন।
সরকারের সকল ধরনের স্বাস্থসেবা কার্যক্রমে নিজেদের সবটুকু দিয়ে পাশে দাঁড়াতে পেরে এসব ডিপ্লোমা চিকিৎসক সব সময় আনন্দিত, তাদের মনবল আরও বৃদ্ধি করার জন্য ব্যাচেলর চিকিৎসক এবং নার্সদের পাশাপাশি এই ক্রান্তিলগ্নে তাদের সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হোক সেজন্য, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে ব্যচেলর চিকিৎসক, নার্স প্রতিনিধির পাশাপাশি একজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রতিনিধি যোগ করালে সেটা তাদের উৎসাহ যোগাবে এবং মনোবল বৃদ্ধিতে আরও সহায়ক হবে বলে মনে করেন এসব চিকিৎসা কর্মীরা।
আপনার মতামত দিন :