স্বাস্থ্যখাতে ভয়াবহ চিত্র : টেকনোলজিস্ট থাকার কথা ৪ লাখ আছে মাত্র ৪ শত

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মান দণ্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য কর্মীর অনুপাত থাকবে ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ) ১ : ৩ : ৫। তাহলে বাংলাদেশ এ ডাক্তার এর সংখ্যা যদি ৮০ হাজার হয় তাহলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গণের সংখ্যা হওয়া উচিত ৪ লাখ। বর্তমান কর্মস্থলে রয়েছেন মাত্র ৪০০ জনের মত। একজন ডাক্তার রোগীকে সময় দেয় দুই থেকে দশ মিনিট এবং প্রতিটি রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দেয়া হয় দশ থেকে বিশটা । ল্যাব এ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে অনেক সময় লাগে কারণ এই পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসা দেয়া সম্ভব। রিপোর্ট ভুল হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে ভুল চিকিৎসায়।

প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ বা নোবেল করোনা ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে আরো আগেই। এর প্রভাবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপি স্থবির হয়ে পড়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পারিপার্শ্বিক সহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা। এরই অংশ বিশেষ বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে সর্ব প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয় ৮ই মার্চ। আর ইতোপূর্বে এই আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০১২ কোটায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণে কেন্দ্র হিসেবে প্রথমে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (IEDCR) প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হতো। পরবর্তীতে তা পরীক্ষা কেন্দ্র বৃদ্ধি করে বর্তমানে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করে কারা বা নমুনা সংগ্রহ করে কে? যারা সংগ্রহ করছেন তাদের সংখ্যা কত? আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় সংগ্রহকারী পর্যাপ্ত আছে কিনা? এমন প্রশ্ন সাংবাদিক মহল থেকে জনমনে ও ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন গুলোর উত্তর হচ্ছে, রোগীর কাছ থেকে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব.) বা ল্যাব. টেকনোলজিস্টগণ। এরপর ল্যাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রিপোর্ট প্রদান করেন।

দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটিরও অধিক। আর এই ষোল কোটিরও অধিক জনসংখ্যার বিপরীতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছে মাত্র ৪০০ জন। IEDCR এ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন ১০-১২ জন মাত্র। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, বিএসএমএমইউ সহ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর সংখ্যা খুবই কম। যার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। কিছু দিন পূর্বে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো শুরু করা যাচ্ছে না করোনা ভাইরাস টেস্ট।  অনেকেই চাকুরী থেকে অবসরে চলে গেছে কিন্তু তার স্থলে নিয়োগ ও দেয়া হয়নি। এমন চিত্র দেশের জেলা সদর হাসপাতাল ভয়াবহ জানা গেছে মাত্র একটি পোস্ট রয়েছে জেলা সদর হাসপাতালে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরীক্ষার উপরেই জোর বেশি দিচ্ছে। কারণ পরীক্ষা যত বেশি হবে রোগীর সংখ্যা নির্ণয়, রোগের বিস্তার, করনীয় নির্ধারণ সহ আনুষঙ্গিক বিষয় গুলোর উপর সম্পর্কে তত বেশি স্পষ্ট ধারণ সৃষ্টি হবে। বর্তমান কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জনবল বাড়ানোর বিকল্প কিছুই নেই। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি বা নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন তখনই সার্থক ও সফল হবে যখন এগুলির সঠিক পরিচালনা হবে। আর এই এসব কিছু পরিচালনার জন্য চাই দক্ষ জনবল। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বপ্রথম রোগীর অতি নিকটে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা সহ পরীক্ষা নিরীক্ষার ও বেশির ভাগ কাজই মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই করে থাকে। তাদের একটি ভুল রিপোর্ট যেমন একটা সমাজে করোনা ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট ঠিক তেমনি তাদের একটি সঠিক রিপোর্ট ও বাঁচাতে পারে একটি সমাজ কে একটি দেশকে। রোগ নির্ণয়ের মত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। তাদের রিপোর্ট উপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন চিকিৎসকবৃন্দ। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গণের নিয়োগ দেয়া খুব জরুরি।

-আশীষ শীল শ্রাবণ/মেডিনিউজবিডি।

আপনার মতামত দিন :