রমজানে কিডনী রোগীদের করনীয়-ডাঃ ফজলে এলাহী খাঁন

Shahadat Shahadat

Hossain

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

চলছে পবিত্র রমজান মাস। তার সাথে রয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও । কিন্তু রমজান মাসে অনেকেই চিন্তায় পরে যায় রোজায় খাবার দাবার নিয়ে। রোজায় কোন খাবার খাবে ? কোন খাবারটা বাদ দেবে ? কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো  ? কোনটা খারাপ এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকেই।

 

বিশেষ করে কিডনি রোগে যারা আক্রান্ত তাদের জন্য রোজা রাখা ও খাবার খাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এক্ষেত্রে আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে।

আজ জেনে নিন কিডনি রোগী রোজার ডায়েট কেমন হওয়া উচিৎ। কিডনি রোগীরা রোজার আগে একটা ব্লাড টেষ্ট করিয়ে নিতে হয়। এবং তার রক্তের  ক্রিয়েটিনিন   মাত্রা  এবং ইলেকট্রলাইটসহ  আরো  কিছু রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কিডনির কার্যক্ষমতা জেনে নিতে হবে। এর উপর ভিত্তি করে রোজার ডায়েট তৈরি করতে হবে।

রোজায় একজন কিডনি রোগী কি খাবেন

সাধারণত ক্রিয়েটিনিন বেশি থাকলে কিডনি রোগীদের ডাল ও ডালের তৈরি খাবার খেতে নিষেধ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজু, বেসনের তৈরি বেগুনি, হালিম, ঘুগনি ইত্যাদি। সুতরাং কিডনি রোগীদের এ সমস্ত খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এর বদলে চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পারেন।

বাইরের কৃত্রিম রং দেয়া খাবার, টেস্টিং সল্ট দেয়া খাবার না খাওয়াই ভাল।

ফলঃ- যত রকম সাইট্রাস যুক্ত টক ফল যেমন, লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি, আম, আংগুর এবং উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল যেমন, কলা এবং ড্রাইফ্রুট বা শুকনা ফল এবং টমেটো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে বা খুব কম পরিমানে খাওয়া যাবে। তাছাড়া আনারস, আপেল, বেদানা, নাশপাতি, পেয়ারা, কাঠাল, বড়ই ইত্যাদি পরিমিত পরিমান খাওয়া যাবে।

 

সবজির ক্ষেত্রে কি কি খাওয়া যাবে না?

সব ধরনের সবুজ শাক ও পাতা জাতীয় সবজি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে বা খুব পরিমিত গ্রহণ করা সম্ভব। মাটির নিচের সবজি বিশেষ করে আলু, মিষ্টি আলু, কচু ইত্যাদি খাওয়া বাদ দিতে হবে। তাছাড়াও পিউরিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন ডাল, বীচি জাতীয় সবজি ( সীম, বরবটি ইত্যাদি) খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তবে মাটির নিচের সবজি গাজর, মূলা, পেয়াজ পরিমিত খাওয়া যাবে। অন্যান্য সব্জির মধ্যে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, লাউ, ঢেড়শ, ঝিংগা, চিচিংগা, তিতাকরল্লা, মটরশুঁটি, কাকরোল, ফুলকপি, ব্রকলি ইত্যাদি সবজি পর্যাপ্ত পরিমানে খাওয়া যাবে।

 

দুধ বা দুধ জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে

এক সার্ভিং এর বেশি খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহনে কিডনির দূর্বল কার্যকারিতার জন্য বাড়তি ক্যালসিয়াম পরিশোষনে কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি হয়।

 

প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে

রোগীর বয়স, ওজন, উচ্চতা, পরিশ্রমের প্রকার এবং রোগের ধাপ বা স্টেজ এর উপর নির্ভর করে পুষ্টিবিদের দ্বারা নির্ধারিত পরিমান প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত ব্যাক্তির প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন বরাদ্দ করা যায়। এক্ষেত্রে গরু, খাসী এবং ষাড়ের মাংস যতটা সম্ভব বাদ দিতে হবে। বিভিন্ন প্রকার মাছ, মুরগী, কবুতর, ডিম, পনির ইত্যাদি থেকে প্রোটিন এর চাহিদা মেটানো বাঞ্চনীয়। ফ্যাট এর পরিমান ও পুষ্টিবিদের নির্ধারণ করা পরিমানেই হতে হবে।

 

সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো

পানি গ্রহণের পরিমান। যেহেতু কিডনির ফিলট্রেশন কার্যকারিতা কমে যায়, তাই পানির পরিমান নিয়ন্ত্রণ করা অতিব জরুরি। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাভাবিক পরিমাণ অর্থাৎ ব্যাক্তির প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.০৩ লিটার পানি গ্রহণ করা যাবে। এবং রোগের পরবর্তী ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম স্টেজে জি আফ আর অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শক্রমে পানির পরিমান নির্ধারিত হবে।

কিডনির কার্যকারিতা ত্বরান্বিত করতে কিছু বিষয় এ গুরুত্ব দেয়া উচিত। অতিরিক্ত ব্যায়াম আমাদের দেহের বিপাক বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে প্রোটিন এর বিপাক ও বেড়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে অতিরিক্ত প্রোটিন এর ফিলট্রেশন এ কিডনির উপর চাপ পরে। তাই অতিরিক্ত ব্যায়াম না করে কিছু হাল্কা ব্যায়াম যেমন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ২০ থেকে ৩০ মিনিট স্বাভাবিকভাবে বা কিছুটা দ্রুত হাটা ইত্যাদি এক্টিভিটি মেনে ব্যায়াম করা উচিত।

তাছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। শারীরিক কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আর যেহেতু এখন করোনা মহামারী চলছে তাই সবাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিত না বের হওয়ায় উত্তম।

 

লেখক

ডাঃ ফজলে এলাহী খাঁন(এনাম)

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (কিডনী বিভাগ)

আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালী

সাংগঠনিক সম্পাদক

বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন

 

চেম্বারঃ

পপুলার ডায়াগণষ্টিক সেন্টার

নোয়াখালী শাখা।

আপনার মতামত দিন :