ঈদের আগে প্রণোদনা পাচ্ছেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় কাজটি এগিয়ে নিচ্ছে জানিয়ে তারা বলেন, কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ প্রণোদনা পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর কোভিড রোগী শনাক্ত হওয়ার সময় থেকে এ প্রণোদনা  কার্যকর হবে। তবে ঈদ-উল-ফিতরের আগে এটি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান  বলেন, ‘এটি প্রক্রিয়াধীন আছে, দ্রুতই হবে।’

ঈদের আগে হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের আগে কোনো কার্যদিবসই থাকছে না। তাই ঈদের আগে সম্ভাবনা নাই। মন্ত্রণালয় কাজটি এগিয়ে নিচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এ প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর  বলেন, ‘কোভিড-১৯ রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় যারা জড়িত তাদের জন্য এ প্রণোদনা। আমি এটা পেতে পারি না। কারণ আমি চিকিৎসা সেবায় যুক্ত না।’

স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা কোন তারিখ থেকে এ প্রণোদনা পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারাই কোভিডে দায়িত্ব পালন করবেন—তাদের বিষয়ে সরকারের কাছে রেকর্ড রয়েছে, তাদেরকেই এটি দেওয়া হবে। যখন থেকে কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, তখন থেকেই কার্যকর হবে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির মেডিভয়েসকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ একটি তালিকা তৈরি করেছে। তবে এটা কিভাবে করেছে বিস্তারিত জানি না। সেই আলোকে একটি বিলও মনে হয় করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালের নন-কোভিড অংশে অনেক কোভিড রোগী আসছে। তাদের দ্বারা চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী জানতে পারছেন না কোন রোগী কোভিড কিংবা কোন রোগী কোভিড না। তাহলে কোভিড হাসপাতাল বা নন-কোভিড হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নাই। বরং কোভিডের চেয়ে নন-কোভিড হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া চিকিৎসকদের করোনায় আক্রান্তের হার বেশি। তারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন। সকল স্বাস্থ্যকর্মীই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তবে তহবিলের বিষয়ে রাষ্ট্রের তো একটি সীমাবদ্ধতা আছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ  বলেন, ‘প্রণোদনা-স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে-কয়ে আমি করিয়েছিলাম। এটি অবিলম্বে দেওয়া হলে তারা কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। অনেক সময় তারা নিজ খরচে হাসপাতালে যাচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সংগ্রহ করছেন। এরপরও তারা সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই এটা তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়া জরুরি। এতে তারা স্বস্তি ও আনন্দবোধ করবেন, পাশাপাশি কাজ করতে সাহসী ও উৎসাহী হবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করোনা আক্রান্ত একজন চিকিৎসক  বলেন, ‘চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ প্রণোদনা তাদের জন্য উৎসাহ হিসেবে কাজ করে। সরবরাহ স্বল্পতার কারণে অনেক চিকিৎসক বেতনের টাকা থেকে নিরাপত্তা সামগ্রীগুলো কিনছেন। এজন্য তাদের অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন। এ অবস্থায় প্রণোদনার টাকা তাদের জন্য স্বস্তির কারণ হবে।’

এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদেরও এ প্রণোদনার আওতায় আনা উচিত বলেও মনে করেন এ চিকিৎসক।

প্রণোদনার ঘোষণায় যা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী  

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ এপ্রিল সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চ মাস থেকে যারা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছেন, আমি তাদের পুরস্কৃত করতে চাই।’

স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতেই সরকার এই বিশেষ প্রণোদনা দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তাদের জন্য ৫-১০ লাখ টাকার একটি স্বাস্থ্য বীমা থাকবে। কেউ মারা গেলে স্বাস্থ্য বীমার পরিমাণ হবে পাঁচগুণ বেশি।

তিনি জানান, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী দায়িত্ব পালনের সময় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে সকল ব্যয় সরকার বহন করবে। তিনি এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী এবং অর্থ সচিবের সাথে কথা বলেছেন।

স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকা করার নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত দিন :