মেডিকেল শিক্ষায় অনিশ্চিত জীবনের নাম MATS

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

ম্যাটসে যারা ভর্তি হবেন ভাবছেন তাদের জন্য খুদে বার্তা:-

চলুন আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে জেনে নেই
★ ম্যাটস্ কি??
★ কেন পড়বেন??
★ কোন ধরণের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন??
★ ম্যাটস্ পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন কি??
★ ম্যাটস্ পড়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কতটুকু??

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত দ্যা স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ কর্তৃক অধিভুক্ত একটি কোর্সের নাম, মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং কোর্স (ডিগ্রীর নামঃ- ডিএমএফ; ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি, যেটা ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে পরিচিত)। এই ডিপ্লোমাটি করতে হয় ম্যাটস (মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুল) থেকে, বর্তমানে দেশে ৯টি সরকারী প্রতিষ্ঠান (ম্যাটস্,বাগেরহাট। ম্যাটস্, নোয়াখালী। ম্যাটস্, টাঙ্গাইল।ম্যাটস্, সিরাজগঞ্জ।ম্যাটস্, কুষ্টিয়া। ম্যাটস্, ফরিদপুর।ম্যাটস্, কুমিল্লা এবং ম্যাটস্, ঝিনাইদহ। ম্যাটস্, সাতক্ষীরা) রয়েছে।

সরকারী প্রতিষ্ঠানের নাম চিনার উপায়,যেমনঃ- সরকারী ম্যাটসের ক্ষেত্রে ম্যাটস্,টাংগাইল (সরকারী ম্যাটস)। কিন্তু টাংগাইলের কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থাকলে তার নাম হবে টাংগাইল ম্যাটস্ (বেসরকারী) । সারাদেশে সরকারী ম্যাটসে প্রত্যেক বছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৭৬৮জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের মধ্যবিত্ত /গরীব পরিবারের মেধাবী ছাত্ররাই এসব প্রতিষ্ঠানে চান্স পেয়ে থাকে।

#ভর্তি_যোগ্যতা: এসএসসি পাশের পর বিজ্ঞাণ বিভাগ হতে (বায়োলজি আবশ্যক) জিপিএ ২.৫ (হাস্যকর) হলেই আপনি ম্যাটসে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সরকারী ম্যাটসে বেশির ভাগেরই পূর্বে ফার্স্ট ডিভিশন বর্তমানে A+ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই শতকরা ৬০-৭০% বাকি ৪০-৩০%% জিপিএ ৪.৫০ এর বেশি।

#কোর্সের_মেয়াদ: মোট ৪ বছর মেয়াদী কোর্স
১ম বর্ষে পড়ানো হয় :
1.Basic Anatomy and Physiology
2.Basic English
3.Basic Community Health & Medical Ethics
4.Basic Computer

২য় বর্ষে :
1. Basic Pharmacology
2. Basic Pathology and Microbiology

৩য় বর্ষে :
1.Basic Medicine
2.Basic Gynecology and Obstetrics
3.Basic Community Medicine & Health Management
4.Basic Surgery (Including Orthopedics, ENT & Dental)
(৩ বছর একাডেমিক + ১ বছর ইন্টার্নী; ৯ মাস জেলা সদর হাসপাতাল + ৩মাস উপজেলা হাসপাতাল)

#ক্যারিয়ার: প্রাতিষ্ঠানিক পড়া শুনা শেষে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে ম্যাটস্ পাশ করা শিক্ষার্থীদের রেজিস্টার্ড ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট প্র্যাকটিশনার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে থাকে যা ডি-/D- দ্বারা চিহ্নিত থাকে (যেমন বিএমডিসি রেজি : ডি-১২৩৪) এটি মূলত বি ক্যাটাগরী রেজিষ্ট্রেশন। স্বাস্থ্য খাতে স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ম্যাটস্ থেকে পাশ করা “ডিএমএফ” দের নিয়োগ প্রদান করে থাকে। যাদের কর্মস্থল হয়, জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে, যাদের পদবী “উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার” হিসেবে। গ্রাম বাংলার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এক অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে এইসব ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭০-৮০% চিকিৎসা সেবা নির্ভর করে তাদের উপর। স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দেশী বিদেশী এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, বেসরকারী হাসপাতাল/ক্লিনিক এ চাকরির সুযোগ রয়েছে।

#সতর্কতা: আমাদের দেশে একদল শোষক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা টাকার লোভে পড়ে নষ্ট করে যাচ্ছে হাজারো জীবন। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে দেশের আনাছে কানাছে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে অজস্র প্রাইভেট ম্যাটস্, আনুমানিক ২০০ টার বেশি। প্রতিষ্ঠান গুলোর বেশির ভাগ মানহীন এবং অবৈধ। এরা যখন ভর্তির জন্য বিজ্ঞাপন দেয় তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখবেন অনেক লোভনীয় অফার,যেমন:-
১।সরকারী ও বেসরকারি চাকরি নিশ্চিত!!!
২। অল্প পড়াশুনায় ডাক্তার হওয়া যায়!!!
৩। ভর্তি হলে কম্পিউটার ফ্রি!!!
৩। প্রতিষ্ঠান থেকে আকর্ষণীয় বেতনের বেসরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়!!!
৪। অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা ক্লাস নেওয়া হয়!!!

এসব দেখলে আমরা বাঙ্গালীরা আর মাথা ঠিক রাখতে পারি না
যখন দেখি সরকারী ম্যাটসে চান্স পাওয়া গেল না তখন ঐসব লোভনীয় অফারের ফান্দে পড়ে যায়।

চলুন জেনে নেই সেগুলোর অবস্থা, সরকারী চাকরী নিশ্চিত হবে কিভাবে??
উত্তর: গত ৭ বছরে ম্যাটস্ পাশ করা শিক্ষার্থীদের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আন্ডারে নিয়োগ হয়েছে ২ বার (৬৮ জন এবং ১১৩ জন) আর কবে নতুন নিয়োগ হবে তারও ঠিক নাই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও গত ৭ বছর ধরে কোন নিয়োগ নেই। বর্তমানে ৩০ হাজারের অধিক বেকার বসে আছে। তাহলে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো কোথা থেকে তারা নিজেরাই এত সরকারী চাকরী দিয়ে দেয়?? দেশে যদি প্রাইভেট ম্যাটস্ থাকে ২০০টা, প্রত্যেকটা ম্যাটসে এভারেজে ৫০জন শিক্ষার্থী থাকলে প্রতি বছর ১০০০০ জন ভর্তি হয়, প্রতি বছর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে ৮/৯ হাজারের অধিক ডিএমএফ পাশ করে বের হয়। দেশের প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, এনজিও, গার্মেন্টসে বছরে ১০০০ হাজার নিয়োগও হয় না। মনে রাখবেন ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত কার্যক্রম যেসব প্রতিষ্ঠানে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠান ই একমাত্র তাদের চাকরীর সুযোগ দেয়,অন্য কোন সেকশনে চাকরির সুযোগ দেয় না/দেওয়া হয় না। তাহলে তারা সবাইকে চাকরি দেয় কিভাবে??
তারা সব চাকরী পেলে সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা কি করে?? এমন প্রশ্নে আসে মনে???

অন্যদিকে ১০০% প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৫% এর উপরে প্রতিষ্ঠান গুলো চলছে ভাড়া বিল্ডিং এর মধ্যে, অধিকাংশে নেই দক্ষ শিক্ষক, নেই কোন সুযোগ সুবিধা। শিক্ষার্থীদের দেখানো হয় অজস্র স্বপ্ন, বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ মালিক হল আদম ব্যবসায়ী, তারা টাকার জন্য কচি কচি জীবন গুলো নিয়ে খেলতেই পছন্দ করে। সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ছাত্রের ভর্তি ফি সহ (প্রাতিষ্ঠানিক খরচ) ৪ বছরে পড়ে ২০,০০০ টাকা, প্রাইভেট ম্যাটসের স্টুডেন্ট প্রতি প্রতিষ্ঠান গড়ে ১৫০০০০ টাকা থেকে ৩৫০০০০ টাকার মত আদায় করে। অন্যান্য খরচ (হোস্টেল + বিভিন্ন প্রোগ্রাম) সহ একজন স্টুডেন্ট এর প্রায় ৪০০০০০ থেকে ৭০০০০০ টাকা খরচ হয় (স্থান কাল অবস্থান ভেদে)। এছাড়া ইন্টার্ণী করার আগে স্টুডেন্টদের থেকে অবৈধ ভাবে ২০-৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

কখনো কখনো এত টাকা খরচ করার পরে যখন একজন শিক্ষার্থী জানতে পারে তার প্রতিষ্ঠান টা অবৈধ, সে যে প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করলো সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাবে না বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। তাহলে তার সব অর্জন অবৈধ হয়ে গেল। দোষটা ছিল না জেনে ভর্তি হওয়া। মনে রাখবেন বেসরকারি ২০০ এর অধিক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৮ টার থেকেও কম বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত, বাকি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কিন্তু রেজিস্টার্ড ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট প্র্যাকটিশনার হিসেবে BM&DC রেজিস্ট্রেশন পাবে না, তাহলে তাদের জীবনটাই হয়ে গেল বৃথা, মানব সেবা করার ইচ্ছা থাকলেও দেশের আইন তাকে অবৈধ বলে আর করতে দেবে না।

প্রকাশিত হল SSC পরীক্ষার রেজাল্ট, শুরু হবে আবার সেই আদম ব্যবসায়ীদের মিথ্যা প্রচার, ধিক্কার জানান তাদের। রাস্তার পাশে টাঙ্গানো সব ব্যানার, লিফলেট দেখলে আগে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে থাকলে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন, পারলে ডিপ্লোমা পড়ার ইচ্ছা থাকলে ম্যাটস্ কে শতভাগ এড়িয়ে চলুন।

#ইন্টার্নি ভাতাঃ প্রত্যেকটা ডিপ্লোমা কোর্সে ৩-৬ মাস ইন্টার্নিশিপ পিরিয়ড থাকে, যে সময়টাতে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষা নেয়। ম্যাটস্ থেকে পাশ করা ডিএমএফ দের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম যেখানে ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে সদর হাসপাতাল গুলোতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য প্লেসমেন্ট দেওয়া থাকে যেটা একাডেমি ক্লাসের সমান সময়ের। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষ শেষে চতুর্থ বর্ষে ১ বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ থাকে (বাধ্যতামূলক ৯মাস জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৩ মাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স)। অন্যান্য ডিপ্লোমা ; নার্সিং, ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং সহ প্রত্যেকটা ডিপ্লোমা কোর্সে সরকার ইন্টার্নি ভাতা প্রদান করে যদিও তারা সর্বোচ্চ ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে কিন্তু ডিএমএফ ইন্টার্নরা দ্বিতীয় বর্ষ থেকে হাসপাতালে কাজ করার পাশাপাশি ১ বছর সম্পূর্ণ অবৈতনিক ভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করলেও নিজের প্রাপ্য হিসেবে ইন্টার্নি ভাতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত, কিন্তু কেন??

#সঠিক পরিচয় নেইঃ MATS থেকে পাশ করার পর Diploma in Medical Faculty (D.M.F) ডিগ্রী পেলেও দিন শেষে তার পরিচয় সে মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট! কিন্তু এই বৈষম্য কেন?? নার্সিং এর স্টুডেন্ট মানবিক/বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাশ করে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়ে পাশ করলে হয়ে যায় নার্স (নার্সিং এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়), মেডিকেল টেকনোলজিস্টগণ Institute of Health Technology থেকে পাশ করে হয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পলিটেকনিক থেকে পাশ করে হয় Diploma Engineer (ইন্জিনিয়ারিং এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়), Agriculture Institute থেকে পাশ করে হয় ডিপ্লোমা কৃষিবিদ (এগ্রিকালচার এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়)।
ম্যাটস্ থেকে যারা পাশ করেন তারা বেসিক মেডিসিন, বেসিক কমিউনিটি মেডিসিন, বেসিক সার্জারী, বেসিক গাইনী & অবস্ পড়ে থাকে যেমনটা অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীগণ পড়েন (বেসিক), কিন্তু একাডেমিক কোন সাবজেক্টের নাম মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্সি থাকে না, তাহলে রাষ্ট্র এবং নীতিনির্ধারকেরা কেন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন?? অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদেরকে তাদের স্ব স্ব সম্প্রদায়ের নামের আগে ডিপ্লোমা সংযুক্ত করে ডাকা হয়, যেমনঃ ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমা রেডিওলজিস্ট, ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ। তাহলে স্বাস্থ্য খাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ডিএমএফ রা কি সঠিক পরিচয় আশা করে না??

#উচ্চশিক্ষা: আবার আপনার মনে প্রশ্ন জাগলো, ম্যাটস্ পাস করার পরে আমি উচ্চ শিক্ষা (MBBS অথবা সমমান) গ্রহণ করতে পারব কি??
উত্তর: স্ট্রেট না, না এবং না। কারণ, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ থেকে ৪ বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন ডিএমএফ দের নূন্যতম এইচএসসির সমমান হিসেবে এই রাষ্ট্র এখনো স্বীকৃতি দিতে পারে নাই, যদিও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ইংলিশ ভার্সনের মেডিকেল ডিপ্লোমা এটি। এই লজ্জা আমাদের সমাজ, শাসনব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের। যেহেতু ৪ বছরের ডিপ্লোমা শেষে নূন্যতম H.S.C সমমান রাষ্ট্র দিতে পারে না। মেডিকেল ডিপ্লোমার মত অন্যান্য ডিপ্লোমা যেমনঃ নার্সিং, মেডিকেল টেকনোলজি। এদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আছে কিন্তু ম্যাটস্ থেকে পাশ করা ডিএমএফ দের জন্য কোন সুযোগ নাই। বাংলাদেশের অন্যান্য ডিপ্লোমা যেমনঃ ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা টেক্সটাইল, ডিপ্লোমা ফরেস্ট্রি, ডিপ্লোমা ফিসারিজ এসব কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের পরিবর্তে বাণিজ্য বিভাগ/মানবিক থেকে ভর্তি হলেও দিন শেষে উচ্চ শিক্ষার পথ খোলা থাকায় বাণিজ্য /মানবিক থেকে পাশ করা একজন শিক্ষার্থী হয়ে যায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, বিএসসি………….।
কিন্তু ৪ বছর মেডিসিন, সার্জারী এবং গাইনী পড়েও হয় না উচ্চ শিক্ষার সুযোগ। এইটা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। বারবার আন্দোলন করেও ব্যর্থ হচ্ছে এই জাতি, কখনো সূর্যের আলো দেখবে কিনা তা কোন শিক্ষার্থীর জানা নেই।

আর একটা কথা, আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে এই বিশাল সম্প্রদায়ের মধ্যে সরকারী চাকরি তো দূরের কথা প্রাইভেট চাকরি পাচ্ছে না এবং ডিপ্লোমার ভোজা নিয়ে করছে টা কি???
বুঝার সুবিধার্থে আনুমানিক হিসাব :-
৪০-৪৫% শিক্ষার্থী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছে, ২৫% প্রফেশন চেইঞ্জ করে অন্য কিছু করছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ইন্টারমেডিয়েট সম্পন্ন করে অন্য কিছু নিয়ে পড়ছে, ১০% প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছে (সেখানেও অহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছে), ১০% বসে আছে কবে সরকারী সার্কুলার হবে সে আশায়, বাকি ১০% বাবার অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া কিছুই করছে না। চাকরি না পেলে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে জীবন পার করবেন ভাবছেন?? কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়লে প্র্যাকটিস রেখে হাতে হারিকেন নিয়ে ঘুরতে হবে। মোট কথা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার অপর নাম ম্যাটস্………..

তাহলে, কেন আপনি জেনে শুনে অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন??
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমি কেন পড়লাম তাহলে??
শুধু আমি না, সরকারী বেসরকারি থেকে পাশ করা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পরিবার এবং সমাজের সিদ্ধান্তের কাছে হেরে গিয়ে ম্যাটসে পড়ে। মাত্র ১০ ক্লাস পাশ করার পরে তখন কোন শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বয়স হয় না তখন তাই এই করুণ পরিণতি। আমরা জানতাম না, তাই ভুল পথে পা দিয়েছি কিন্তু আপনিতো অলরেডি জেনে গেলেন কি অবস্থানে আছে ডিএমএফ। ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে অন্ধকারে ঠেলে দেবে, আলোর দেখা কখনো পাবেন না।

আমার এই বার্তা যদি কোন অভিভাবক পড়ে থাকেন তাহলে হাতজোড় করে বলছি, আপনার কোন পাপের শাস্তি আপনার সন্তান/ভাই/বোন কে দেবেন না প্লীজ, ম্যাটস্ একটা অনিশ্চিত জীবনের নাম। নেই সরকারী চাকরি, প্রাইভেট চাকরি সেটা রেফারেন্স ছাড়া খুব কম চাকরি হয়, নেই উচ্চ শিক্ষা, নীতিনির্ধারকদের নেই কোন পরিকল্পনা, এক কথায় কিছুই নাই শুধু শুধু একটা জ্যান্ত মানুষকে কঠিন আজাবের মধ্যে ঠেলে দেওয়া। আপনার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ম্যাটসের মত ভুল কোন কিছু চয়েজ না করে তাকে আপনার হাতে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন তাতেও শান্তি পাবে ঐ আত্মা কিন্তু ম্যাটস্ কে কখনো হ্যাঁ বলবেন না প্লীজ। অনেক কথা বলা যায় হয়তো আপনি অভিভাবক সেটা বুঝবেন না, কিন্তু বুঝবে বলি হওয়া মানুষটা। আর কোন শিক্ষার্থী ভাই বোন যদি আমার মেসেজটা পেয়ে থাকেন তাহলে আশা করছি বুঝতে বাকি নেই আমি কি বলতে চেয়েছি। হ্যাঁ, ভুলেও ম্যাটসের দিকে পা দেবেন না। ডিপ্লোমা পড়ার ইচ্ছা থাকলে আমাদের দেশে অনেক ডিপ্লোমা আছে যেগুলোতে পড়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া যায় সেগুলো নিয়ে ভাবুন কিন্তু এই আজাবের দিকে পা দেবেন না। ভাগ্যের নির্মমতায় হেরে গেলে মনে রাখবেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপসোস করবেন, তখন কোন কাজে আসবে না।

আসুন, নিজে সচেতন হই এবং অন্য কাউকে সচেতন করি। ম্যাটস্ ভর্তিকে ১০০% না বলুন। ৩০০০০+ বেকার, সম্পূর্ণ গন্তব্যহীন, এই কূল ঐ কূল কোনটাই নাই। যদি মনে করেন ম্যাটসে আপনার পড়তেই হবে তাহলে আমাদের দেশে এখন সরকারী ৯ টা ম্যাটস্ আছে, সেখানে ভর্তি হয়ে জীবনের তীব্র জ্বালাটা উপভোগ করুন। কি দরকার শুধু শুধু লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিষ খেয়ে মরার?? সরকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও টাকা খরচ করার খুব ইচ্ছা থাকলে ভর্তির পূর্বে অবশ্যই অবশ্যই জেনে নিবেন তারা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের আওতাধীন কিনা।

দিনশেষে বলব, “Your life is your’s to destroy or build”

জনস্বার্থে:-
নাছরুল্যাহ আনাছ
বাংলাদেশ মেডিকেল মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক রেজিস্টার্ড একজন বেকার ডিএমএফ
সাবেক ছাত্র, সরকারী ম্যাটস্,টাঙ্গাইল (৩১তম ব্যাচ, ২০১২-২০১৩ সেশন)।

আপনার মতামত দিন :