ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ফার্মাসিস্টের লাশ উদ্ধার

Selim Selim

Reza

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

ডেমরার মাতুয়াইলের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট মোবারক হোসেনের (৩৩) মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিচালক জামাল হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পরে তারা মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে লাশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথম দিকে তা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে নিয়েছে। এ ছাড়াও মৃত মোবারকের শরীরে ও পিঠে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে সে সব কথা উল্লেখ করেনি। এই সুরতহাল প্রতিবেদন নিহতের পরিবার তিনবার প্রত্যাখ্যান করলেও সেটিকেই প্রতিবেদন চালিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
নিহতের মোবারকের চাচাতো ভাই রাসেল সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ঘটনার পর দুপুরের দিকে থানায় গেলে পুলিশ প্রথম দিকে হত্যা মামলা নিতে চায়নি। তারা বলছিল, এটাতো হত্যা না। কিভাবে বুঝলেন এটি হত্যা। পরে তারা হত্যা মামলা নিতে বাধ্য হয়েছে। মোবারকের পুরো পিঠে কালসিরা পড়ে গেছে। মনে হয় বেল্ট জাতীয় দ্রব্য দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে কিন্তু সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী ব্যক্তি সেটি সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। সেটিতে লিখেছেন, হাঁটুতে তার জখমের চিহৃ রয়েছে। আমরা এই সুরতহাল প্রতিবেদনটা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছি তখন সুরতহাল প্রতিবেদনকারী কর্মকতা বলেন, এটা নিলে নেন, না নিলে আমাদের কিছু করার নেই। তারা আসামি ধরার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক ও তার সহযোগীকে আসামি করে নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

লাশের সুরতহাল তৈরিকারী কর্মকর্তা ডেমরা থানার এসআই শাহ আলম বলেন, তার পায়ে দুটা নিলাফুলা ও জখমের দাগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও তার পুরো শরীরে বা পিঠে আর কোনো মাধরর বা আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। মুলত তার দেহটা দেখে আমার যেটা মনে হয়েছে সেটাই লিখেছি।
মৃত মোবারকের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় বাসায় ফিরতে একটু দেরি হবে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শুক্রবার দুপুরে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে মোবারকের লাশ উদ্ধারের খবর জানায় পুলিশ। তার পরিবার আরও জানিয়েছে, মোবারক রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইলের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করত। হাসপাতালের পরিচালক জামালের সঙ্গে লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলার ফলে জামাল তাকে ডেকে নেয় তার অফিস ঘরে। পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার পর মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনায় জড়িত হাসপাতালটির পরিচালক জামাল হোসেন ও তার সহযোগী মামুন। এ কারণে তারা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

ওসি সিদ্দিকুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তদন্তে মালিকের কোনো সম্পৃক্ততা পেলে তারপর তাকে গ্রেফতার বা আটক করব, তার আগে নয়। মোবারকের দুই পায়ে আঘাতের চিহৃ পেয়েছে তা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তে কি আসে সে অনুযায়ী তদন্ত হবে। হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে মোবারকের লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি মামলার এজাহারে উল্লেখ করলেও সেটি অস্বীকার করেছেন ওসি।
মৃত মোবারকের পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, যদি কোনো লোক মারা যায়, কিছু কিছু ইনজুরি আছে খালি চোখে দেখা যাবে, আবার কিছু দেখা যায় না। তা ১২ ঘণ্টা পর দেখা যায়। সে রকম থাকতে পারে। তার ডান পায়ে, বাম পায়ে হাঁটুর নিচে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এটা মতামত দেবে চিকিৎসক। আমরা আসামিদের ধরার চেষ্টা করছি। তাদের আটক করা হয়েছে, তারা জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কিছু বলতে পারেনি। এ ঘটনায় আমরা হাসপাতালটি থেকে ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেছি। মারধরের কোনো ফুটেজ নেই। তবে জামাল ও মামুনসহ সংশ্লিষ্টদের ধরার চেষ্টা চলছে।

copy-

আপনার মতামত দিন :