কোরিয়ান মেশিন ‘সেরাজেম’, চিকিৎসা নামের এক অপচিকিৎসার নাম

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

সেরাজেম নামের এই কোরিয়ান কোম্পানী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও তাদের ব্যাবসা শুরু করেছে বেশ কিছু বছর ধরে। বর্তমানে তাদের মার্কেটিং কৌশলে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তাদের বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন কঠিন শারীরিক জটিলতা যেমন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস, হাড়ের সমস্যা, এজমা সহ বিভিন্ন সমস্যায় এই থার্মাল থেরাপিকে সমাধান হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়, যার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই এবং বিভিন্ন গবেষণা জার্নাল খুজলেও তা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। ফলে এ সকল জটিল সমস্যার রোগিগণ এমন অপচিকিৎসা কে চিকিৎসা মনে করে বিনা চিকিৎসায় নিজের অজান্তেই নিজেদের ক্ষতির সম্মুখীন করে চলেছেন।

আসুন জেনে নেই “সেরাজেম” কি?
সেরাজেম কোরিয়ার তৈরি এক ধরণের থার্মাল হিটিং টেকনোলজি সম্বলিত একটি যন্ত্র । সেরাজেম মেশিনে রয়েছে বেশ কিছু থার্মাল হিটিং ডিভাইস এবং বডি ম্যাসাজ সিস্টেম। মূলত সেরাজেম এমন একটি মেশিন, যা একটি বেড এর মাঝে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এর উপর শুয়ে একজন মানুষ থার্মাল হিটের সাথে সাথে শরীরের মাংশপেশীতে মাসাজ করতে পারেন।

কি কি ক্ষেত্রে সেরাজেম কার্যকর হতে পারে?
যেহেতু সেরাজেম একটি থার্মাল বডি মাসাজ মেশিন, সেহেতু এই মেশিন ব্যাবহারে শরীরে কিছুটা রিল্যাক্স ফিল হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে শরীরের মাংশপেশিতে হিট তৈরি করে এর উপর ম্যাসাজ করা হয়, যার ফলে শরীরে কিছুটা রক্ত সঞ্চালন সৃষ্টি হওয়ায় যে কোন মানুষ এটি ব্যাবহারে কিছুটা স্বস্তিবোধ করবেন। ফলে এটি সাধারণভাবে গুরুতর শারীরিক সমস্যা ব্যাতীত নরমাল মাংশপেশীর ব্যাথায় সাময়িকভাবে কাজ করবে।

কেন সেরাজেম বিপজ্জনক হতে পারে?
বাংলাদেশ, তথা উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ মানুষ তাদের শারীরিক সচেতনতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞ্যান না থাকায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশের অনেক মানুষই ভোগান্তির শিকার। আর সেই সুযোগে সেরাজেম, তথা বডি ম্যাসাজের মেশিন সকল রোগের চিকিৎসায় কাজ করে বলে সাধারণ মানুষকে যে অপব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে যার ফলে প্রকৃত রোগিগণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। যেমন, একজন ব্যথার রোগি একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট এর কাছে না গিয়ে দিনের পর দিন তাঁর চিকিৎসার দায়ভার একটি মেশিনের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজের ক্ষতিসাধন করে চলেছেন নিজের অজান্তেই। অথচ দেশ বিদেশে ব্যথার চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিস্টগণ উচ্চশিক্ষা অর্জন করে এভিডেন্স বেইজড গবেষণালব্ধ সায়েন্টিফিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। উন্নত বিশ্বে যেখানে কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, আথ্রাইটিস ও স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস সমস্যায় ফিজিক্যাল থেরাপি চিকিৎসাকেই যথোপযুক্ত মনে করা হচ্ছে, সেখানে এদেশে কোরিয়ান মেশিন বানিজ্য এদেশের সাধারণ রোগিদের মাথার মগজ ধোলাই করছে।

আরো ভয়ের কারণ হলো যে সকল রোগির হার্টের করোনারি স্টেইন্ট তথা রিং পরানো রয়েছে কিংবা পেইসমেকার বসানো আছে তাদের জন্য সেরাজেম মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া সকল রোগিদের হাঁড়ের ভেতর সার্জারি করে মেটাল বসানো আছে তাদের ক্ষেত্রে যে কোন হিটিং টেকনোলজি বিপদের কারণ হতে পারে।
প্যারালাইসিস সহ বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল কন্ডিশনে এ ধরণের হিটিং থেরাপি রোগির কোন কাজে তো আসবেই না, বরং অযথা রোগির সময় নস্ট ছাড়া আর কিছু না।

সেরাজেম কে না বলুনঃ
প্রকৃতপক্ষে কোরিয়ান কোম্পানী বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন করে দেশের সাধারণ মানুষদের বোকা বানিয়ে বিনামুল্যে থারাপির নামে মেশিন বিক্রির একটি অভিনব কৌশলে তাদের ব্যাবসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সেমিনার ও রোগিদের কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সাধারণ রোগিদের মগজ ধোলাই করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেস্টা চালিয়ে আসছে। আর তার সাথে দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল তাদের এই অপপ্রচারে ইন্ধন যোগিয়ে সাধারণ রোগিদের ক্ষতিসাধন করে আসছে।

তাই চিকিৎসার নামে সেরাজেম এর অপপ্রচার সম্পর্কে নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন।

জনস্বার্থে শেয়ার করুন, নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন।

আপনার মতামত দিন :