মাসল ক্র্যাম্প বা মাংসপেশিতে হঠাৎ টানের সমাধান ও চিকিৎসা

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ পায়ের মাংসপেশির টানের ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠলেন আপনি। রাতে হঠাৎ পায়ের মাসল ক্র্যাম্প বা মাংসপেশিতে টানের এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। এমন অসহনীয় ব্যথায় কী করবো তা অনেকেই বুঝতে পারি না। এমন ঘটনা ঘুমের মধ্যে বা জেগে থাকা অবস্থাতেও হতে পারে। তবে ঘুমন্ত অবস্থায় এটি বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের টান কয়েক সেকেন্ড থেকে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যথাটা কয়েক ঘন্টা থেকে এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। সাধারনত কাফ মাসলে এই ধরনের ক্র্যাম্প বেশি হয়। এ ছাড়াও হাতে, পেটে, ঘাড়ে, কোমরে, পায়ের তালুতে মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে।

মাসল ক্র্যাম্প বা মাংসপেশিতে টানের প্রধান কয়েকটি কারণ হলো-

– পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন

– ইলেক্ট্রোলাইটিক ইমব্যালেন্স (দেহে খনিজ অসমতা); অর্থাৎ শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এর ঘাটতিতে মাসল ক্র্যাম্প বা মাংসপেশিতে টান লাগে

– শরীরের যেকোনো একটি মাংসপেশি অনেকক্ষণ ধরে ব্যবহৃত হলে

– ব্যায়াম, খেলাধুলা বা যেকোনো শারীরিক কসরতের আগে ওয়ার্মআপ না করলে এবং অতিরিক্ত ব্যয়াম করলে

– হঠাৎ অতিরিক্ত ভারী কিছু উঠালে/ বহন করলে

– মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা করলে

– যাঁরা দীর্ঘসময় ধরে কম্পিউটারের সামনে কিংবা চেয়ারে বসে কাজ করেন কিংবা লম্বা সময় যানবাহন চালান, তাঁদের কাঁধ, ঘাড় অথবা পিঠের মাংসপেশিতে টান পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে

– গর্ভকালীন সময়ে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবে পেশিতে টান পড়ে

– হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মিন্সট্রুয়েশন, গর্ভসঞ্চার ইত্যাদির কারনেও পেশীতে টান লাগতে পারে

কখন বুঝবেন মাসল ক্র্যাম্প হয়েছে?

– যদি পেশীতে অনেক ব্যথা হয় এবং পেশী অনেক দুর্বল হয়ে যায়

– আঘাতপ্রাপ্ত জায়গাটি যদি ফুলে ওঠে বা লালচে দাগ পড়ে যায়

– যদি আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ব্যবহার করে স্বাভাবিক ওজন নিতে কষ্ট হয়

– মাংসপেশি আপনা-আপনি অনেক শক্ত হয়ে পড়লে

মাসল ক্র্যাম্প এড়াতে কি করবেন?

– প্রচুর পানি পান করতে হবে

– যেকোনো শারীরিক কসরতের আগে বা ভারী কিছু তোলার আগে অবশ্যই ওয়ার্মআপ করে মাংসপেশিগুলোকে সচল করে নিতে হবে

– নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

– দীর্ঘক্ষণ না বসে, ৪০ মিনিট বা এক ঘণ্টা পর পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে হবে

– পেশীর টানমুক্ত অবস্থায় ভালো থাকতে খনিজ উপাদানযুক্ত খাবার গ্রহন করতে হবে। শাকসবজি, ফল, খেজুর, দুধ ও মাংসতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি রয়েছে। তাই এই খাবারগুলো বেশি বেশি খাবেন

মাসল ক্র্যাম্প বা মাংসপেশিতে যদি টান লাগে তাহলে আমাদের করনীয় কি?

– বিশ্রাম নিতে হবে

– পর্যাপ্ত পানি বা তরল গ্রহণ করুন। যেমন- ফলের রস, ডাবের পানি, তরমুজ, স্যালাইন ইত্যাদি।

– কাফ মাসলের ক্ষেত্রে, নিচের নিয়মানুসারে সেলফ কাফ মাসল থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করা যেতে পারে

• সোজা হয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর করে দাঁড়ালে কাফ মাসলের স্ট্রেন্থ বাড়ে। দশ সেকেন্ড ধরে রেখে পা নামিয়ে ফেলুন। তিন বা চারবার করুন। প্রতিদিন অন্তত একবার।

• বসে দুই পা সোজা করে, তোয়ালে দিয়ে পায়ের পাতা সামনের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করুন। দশ সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। পাঁচ থেকে ছয়বার করুন।

• মাসল ক্র্যাম্প এর গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে খুব দ্রত মাসল ক্র্যাম্প থেকে রিলিফ পাওয়া সম্ভব।
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট চিকিৎসক বিভিন্ন রকম টেকনিক এপ্লাই করে মাংসপেশিকে আগের অবস্থায় ফিরে আনে।যেমন-

০ রিলাকজেশন টেকনিক

০ RICE principle থেরাপির মাধ্যমে। RICE principle এর ৪টি ধাপ হলো- রেস্ট, আইস, কমপ্রেশন ও এলিভেট

০ স্ট্রেচিং

প্রয়োজনে আরও জানতে এবং আমাদের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন।

লেখকঃ
ডা. শিফাতুন নিশা, পিটি
ইনচার্জ, ফিমেল ইউনিট
অলিভ’স ফিজিওথেরাপি, উত্তরা।

এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য ফোন করুন ০১৯৪৬০০২৬০০

আপনার মতামত দিন :