ফাইব্রোমায়ালজিয়া কি? লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia) কী?

ফাইব্রোমায়ালজিয়া এমন এক ধরনের সমস্যা যার ফলে হাড় এবং মাংস পেশীর সন্ধিস্থলে ব্যথা সহ সমস্ত শরীরের ব্যথা বিশেষ করে কোমরের উপরের ও নিচের অংশে ব্যথা, সেই সাথে অবসাদ, ঘুম ঘুম ভাব, মেজাজ ও স্মৃতিগত সমস্যা দেখা যায়।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া কাদের বেশি হয়ঃ
যেসকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ
১. লিঙ্গঃপুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রায় সাতগুণ বেশি।
২. পারিবারিক সূত্রঃপরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে এই সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. রিউমেটিকডিজিজঃ যদি কারও রিউমেটিকডিজিজযেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অথবা লুপাস থাকে,তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এক সমীক্ষায় দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ এই রোগে অাক্রান্ত।

কারণঃ
দ্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অার্থাইট্রিস অ্যান্ড মাস্কুলোস্কেলেটাল অ্যান্ড স্কিন ডিজিজের মতে, প্রধান কারণ হলো ট্রমাটিক ঘটনা, শারীরিক অাঘাত এবং অন্য কোনো রোগ বা অসুস্থতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

যেসব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

১.জিনগতবৈশিষ্ট্যঃ পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকলে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২.ইনফেকশনঃ কিছু কিছু অসুস্থতার কারণে এই রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৩.শারীরিক অথবা মানসিক আঘাতঃ পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার এ রোগের সাথে সম্পর্কিত।

উপসর্গঃ
ফাইব্রোমায়ালজিয়ার উপসর্গগুলো শরীরের নমনীয় অংশগুলোতে বেশি পরিলক্ষিত হয়, যাকে ট্রিগার পয়েন্ট বলা হয়। কেননা, এসব অংশ এতটাই সংবেদনশীল যে, সামান্য চাপ বা অাঘাতেই প্রচন্ড যন্ত্রণার উদ্রেক ঘটে। সাধারণ কিছু কিছু উপসর্গ তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে ফাইব্রোমায়ালজিয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। এগুলো হলো-

১. মাইগ্রেনের উপসর্গের সাথে মাথার পেছন দিকে যন্ত্রণা।
২. যেসকল স্থানে অস্থিসন্ধি বিদ্যমান, যেমন দুই কাঁধের উপরিভাগ, কোমর, কনুই এবং হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করা। এ ব্যথা মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে।
দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে সহজেই ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত অনুভব করা, যা বিশ্রাম নিলেও দূর হতে চায় না।
৩. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চালনায় অসাড়ভাব এবং মাংসপেশিতে জমাটবদ্ধতা এবং খিঁচুনি অনুভব করা।
৪. অনিদ্রা কিংবা স্লিপ ডিজঅর্ডারে ভোগা।
৫ কোনো তথ্য মনে রাখতে বা প্রক্রিয়াজাত করতে অসুবিধা হওয়া।
৬.কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।
৭.বিপাকে এবং রেচনে সমস্যা দেখা দেয়া।

এছাড়াও, ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত অনেকেরই দুশ্চিন্তা, মাথা ব্যথা, টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ডিসঅর্ডার, ইরিটেবলবাওয়েলসিন্ড্রম, উদ্বেগ এবং হতাশার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

রোগ নির্ণয়ঃ
এ রোগটি নির্ণয়ের কোনো সুনির্ধারিত পরীক্ষা নেই। তবে আমেরিকান কলেজ অব হেমাটোলজি ওয়াইডস্প্রেড পেইন ইনডেক্স (WPI) এবং সিম্পটম সিভিয়ারিটি স্কেল (SSC) এর অালোকে দুটি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, যার সাহায্যে কারো ফাইব্রোমায়ালজিয়া হয়েছে কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

১. উপসর্গগুলোর তিন মাস বা তার চেয়েও অধিক স্থায়ীত্ব ।
২. অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার অনুপস্থিতি

চিকিৎসাঃ
ফাইব্রোমায়ালজিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে উপসর্গগুলোর ওপর ভিত্তি করে দু’রকম প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে নিরাময় চালানো হয়।

১. ওষুধ: সাধারণত ডিজঅর্ডারগুলোর সাথে লড়াই করার জন্য অ্যানালজেসিক্স এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সেই সাথে ব্যথা উপশমের জন্য অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস বা বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ সেবন করতে হয়। মূলত এগুলোর লক্ষ্য হলো, যন্ত্রণার মাত্রা কমিয়ে এনে রোগীকে ঘুমাতে সহায়

২. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাঃ এ ক্ষেত্রে, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই ফলপ্রসূ চিকিৎসা পদ্ধতি, একজন বিশেজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয়ঃ
এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ
১. মানসিক চাপকমানোঃমানসিক চাপ কমাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অথবা ধ্যান করতে হবে।
২. পর্যাপ্ত ঘুমানো চেষ্টা করুন।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৪. কাজেরভারসাম্যতা বজায় রাখুন।
৪. স্বাস্থ্যকরজীবনযাপন পালন করুন।
৫. স্বাস্থ্যকর খাবার ।

ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিটি
বিপিটি ( ঢাঃবিঃ), এমডি এমআর (ফেলো)
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিষ্ট
আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান মেমোরিয়াল ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল,
বসুন্ধরা আ/এ, ঢাকা
মোবাইলঃ ০১৭৩২-৬৮৩০১৮

আপনার মতামত দিন :