সিটি স্ক্যান পরীক্ষা

Subro Subro

Dev

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

সিটি স্ক্যান রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগের একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সিটি কথাটার পূর্ণ শব্দ হলো কম্পিউটেড টমোগ্রাফি। এই কাজে কম্পিউটার প্রসেসর দিয়ে এনালাইসিস করা হয় বলে কম্পিউটেড কথাটা এসেছে। টোম কথার অর্থ হলো কেটে খন্ড করা। মনে করুন একটা লাউ টেবিলের উপর রেখে ছুড়ি দিয়ে চাক চাক করে একশ স্লাইস বা টুকরা বা চাক্কা করা হলো। ইংরেজিতে বলা হবে একশ সেকশন করা হলো। এই একশ সেকশন পৃথকভাবে একটা একটা করে দেখলে একেকটা একেক রকম দেখা যাবে। কোন সেকশনে একদম ভরা সলিড থাকবে। কোনটা মাঝখানে একটু ফাঁফা থাকবে। কোনটাতে একটা বীজের এক অংশ থাকবে। কোনটাতে বীজের অন্য অংশ থাকবে। কোন অংশে পোকাও থাকতে পারে। লাউয়ের সবগুলো সেকশন আগের মতো গুছিয়ে একাত্র করলে আগের লাউয়ে যেমনটি ছিলো তেমনটি হবে। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় মানুষটা লাউয়ের মতো করে শত শত সেকশন করা হয় এক্স-রে করে বিভিন্ন দিক থেকে। রোগীকে টেবিলে শোয়ায়ে সিটি এক্স-রে মেশিনের গোল ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করানো হয়। এক্স-রে মেশিনটা ভুতের মতো অদ্ভুত শব্দ করে রোগীর শরীরের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে এক্স-রে বিভিন্ন এংগেলের ছবি তুলে কম্পিউটার প্রসেসরে পাঠায়। এই ছবিগুলো মানুষটাকে কাল্পনিক ভাবে সেকশন করার ছবি। সবগুলো ছবি স্ট্যাক করে বা একাত্র করে কম্পিউটার মানুষের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকৃতি তৈরি করে। অঙ্গে কোন জায়গা দখলকারী রোগ বা টিউমার /ক্যান্সার থাকলে তারও অবয়ব তৈরি করে। একটা এক্স-রে ফিল্ম দেখে আমরা অঙ্গের বা রোগের মাত্র একদিকের একটা ছবি পাই। সিটি স্ক্যান করে আমরা ছবিও পাই আকৃতিও পাই। শরীরের যে কোন অংশের অথবা সারা শরীরের সিটি স্ক্যান করা যায়। কিছু কিছু মানসিক রোগী আছে তারা এভাবে বলে থাকে “ডাক্তার সাব, আমি আমার হোল বডি স্ক্যান করে দেখতে চাই।” সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করাতে তেমন সময় লাগে না। পরীক্ষায় কোন কষ্টও নেই। তবে খরচ একটু বেশি। একটা এক্স-রে করাতে যেখানে ৩০০/৪০০ টাকা খরচ হয় সেখানে সিটি স্ক্যান করাতে হয়তো খরচ হয় ৩০০০/৪০০০ টাকা।

সিটি স্ক্যান একটা স্পেশাল পরীক্ষা। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই পরীক্ষা করা ঠিক না। অনেক কারনে ডাক্তার সিটি স্ক্যান করার এডভাইস দিয়ে থাকেন।

হাড় ও জয়েন্টে কোন ডিফেক্ট হলে বা এলো মেলো ভাবে হাড় ভেঙ্গে গেলে অথবা হাড়ে ক্যান্সার হলে সিটি স্ক্যানে ভালো ভাবে ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যান্সার, লিভারের ক্যান্সার, ফুসফুসে বাতাস আটকে থাকা, ফোড়া হওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান সুন্দর করে সেই স্পট ডিটেক্ট করে দেয়।

রোড এক্সিডেন্টে শরীরের ভেতর কোন রক্ত জমাট আছে কি না দেখার জন্যও সিটি স্ক্যান করা হয়।

সিটি স্ক্যান টিইমার, জমাট রক্ত, অতিরিক্ত পানি, ও ইনফেকশন লোকেট করতেও সহায়তা করে।

চিকিৎসকগণ ট্রিটমেন্ট প্লান করতে, অপারেশন প্লান করতে এবং রেডিও থেরাপি দিতেও সিটি স্ক্যানের সহায়তা নেন।

প্যাথলজিস্ট শরীরের ভেতরের রোগ থেকে সেম্পল কালেকশন করতে সিটি স্ক্যান ব্যাবহার করেন। সিটি স্ক্যান দেখে যখন ফাইন নিডল এসপাইরেশন সাইটোলজি সেম্পল কালেকশন করা হয় তখন বলা হয় সিটি গাইডেড এফএনএসি। সিটি গাইডেড এফএনএসি অব স্পেস অকোপাইং লেশন (এসওএল) অব লাংস, লিভার ও এবডোমেন খুবই কার্যকরী একটা পরীক্ষা।

ক্যান্সার চিকিৎসায় রোগ কেমন ভালো হচ্ছে তা টাইম টু টাইম ফলো আপ করতেও সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয়।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সিটি স্ক্যান পরীক্ষা হয় ব্রেইনের। একটা কারন হলো স্ট্রোক করে ব্রেইনে রক্তক্ষরণ হলে তা ডিটেক্ট করা। ব্রেইনে রক্তক্ষরণ হলে সেখানকার ব্রেইনের কিছু অংশ ডেমেজ হয় অথবা চাপ খেয়ে থাকে। এটাকে বলা হয় স্ট্রোক। অনেকে ভুল করে হার্ট এটাককে হার্ট স্ট্রোক বলে। স্ট্রোক হার্টের রোগ না, ব্রেইনের রোগ। ব্রেইন শরীরের অংগ প্রত্যংগ কন্ট্রোল করে। ব্রেইনের যে অংশ শরীরের যে অংশকে কন্ট্রোল করে সেই অংশে রক্তক্ষরণ হয়ে বা ক্যান্সার হয়ে নষ্ট হয়ে গেলে শরীরের সেই অঙ্গ প্যারালাইজড বা অবস হয়ে যায়। এক সাইডের ব্রেইন আক্রান্ত হলে এক সাইডের শরীর অবস হয়। তখন গ্রামের মানুষ বলে অর্ধঙ্গের বাতাস লাগছে। অর্ধঙ্গের বাতাস লাগার কারন জানার জন্য ডাক্তারগণ ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করান।

কিছু কিছু লোক আছে না বুঝেই ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করান। তাদের মাথায় নানান সমস্যা। বেশিরভাগই মানসিক। হালকা মানসিক সমস্যা নিয়ে তারা মনোরোগের ডাক্তারের কাছে যেতে চান না লোকে পাগল বলবে বলে। তারা যান নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। মানসিক সমস্যা দ্রুত ভালো হয় না। তাই দুএকবার ডাক্তার দেখায়ে রিকোয়েস্ট করেন তার ব্রেইনের একটা সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করানোর। রোগীর সন্তুষ্টির জন্য অনেক সময় সিটি স্ক্যান করাতে হয়। এমনকি মনোরোগের ডাক্তারও বাধ্য হয়ে ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করান। আমি লক্ষ্য করেছি গ্রামের অনেক মেয়ের স্বামী চাকরির কারনে দূরে বা প্রবাসে থাকেন । তারা অনেকেই সংসারে একটা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন। অনেকেরই মাথায় চাপ ধরে থাকে। কোন কোন পল্লী চিকিৎসক এই চাপের সুরাহা করতে না পেরে মাথার সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করাতে উদ্ভুদ্ধ করেন। প্রবাস থেকেও বলে দেন যত টাকাই লাগুক সিটি স্ক্যান করানো হোক। তাই, আমাদের দেশে ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করার সংখ্যাটা আমার জানা মতে বেশি।

একটা কেইস হিস্ট্রি উল্লেখ করতে চাই। একবার একজন মেয়ে রোগী গ্রাম থেকে এলেন আমার কাছে পরামর্শ নিতে। তার উপসর্গগুলো হলো মাথা ঘুরায়, বমি বমি ভাব হয় এবং সকালে খুব দুর্বল লাগে। এগুলো হলো প্রেগন্যান্সির উপসর্গ। অবস্টেট্রিক্স হিস্ট্রি নিয়ে জানা গেলো প্রেগনেন্ট হয়েছেন কি না তা জিজ্ঞেস করাও ঠিক না। তার ফাইলে ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষার রিপোর্ট পেলাম। তাতে ব্রেইনে কোন সমস্যা নেই। ব্রেইনের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা কেনো করেছেন জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিলেন যে মাথায় কিছু হলো কি না তা দেখার জন্য পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। আমি তাকে রক্ত ও প্রস্রাবের রুটিন টেস্ট করার জন্য সেম্পল নিলাম এবং পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালাম। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে একটা টিউ

আপনার মতামত দিন :