মাস্ক ছাড়া দোকানে প্রবেশ ও পণ্য বিক্রি নয়

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় দেশের সকল দোকান ও বিপণী বিতানে মাস্ক পরিধান ছাড়া ক্রেতা, বিক্রেতা ও কর্মচারীদের প্রবেশ, পণ্য বিক্রয় এবং সেবা দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় তাঁরা। আজ থেকেই এ নিয়ম কার্যকর করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজ থেকে দেশের সকল দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণি-বিতানে মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রয় করা যাবে না। এ কার্যক্রম ২০২১ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে।

সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারাবিশ্বে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের কিছু দেশে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও শীতকাল আসন্ন। শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের সেই

করোনার দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে।  বাংলাদেশে শীত মৌসুম আসন্ন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সামনে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছে দোকান মালিকেরা। এ সময় সারা দেশের দোকান মালিকদের মাস্কবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দোকান মালিকদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো দোকান মালিকদের জন্য ৫০ লাখ টাকা সীমা পর্যন্ত টার্নওভার ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও ‘মাস্ক নেই, সেবা নেই’ শীর্ষক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো।

লিখিত বক্তব্যে মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে করোনায় ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন আইনের বাধ্যবাধকতা হচ্ছে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা। না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। এটা মানা কোনোভাবেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি প্রণোদনা থেকে তেমন কোনো সুবিধা পাননি জানিয়ে হেলাল উদ্দিন  বলেন,  প্রণোদনা নিতে ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। কিন্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি ১০ থাকে ৫০ হাজার টাকা। তাঁরা কখনোই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করেননি। কারণ, ট্রেড লাইসেন্স করতেই খরচ লাগে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। এই শর্ত মানা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব না বলেও জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আপনার মতামত দিন :