মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ : পাঁচ মাসেও পরীক্ষা নিতে পারেনি অধিদফতর

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

করোনা মহামারি চলাকালে চলতি বছরের ২৫ জুন জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান এই দুই পদে ২ হাজার ৫৩৯ লোকবল নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয় দুটি বিজ্ঞপ্তিতে।

কিন্তু করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় দ্রæত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও পাঁচ মাসে সে কার্যক্রমই শুরুই করতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদফতর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগে নমুনা সংগ্রহে জনবল না বাড়ালে ফের সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হবে।

৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিপোর্ট দিয়ে থাকেন এই টেকনোলজিস্টরা। জনবল সঙ্কটে করোনা শুরুর প্রথম দিকে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ খুব কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে এ
থাকে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৫০০ টেকনোলজিস্ট স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরাসরি রাজস্ব খাতে প্রায় দুই শতাধিক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয় দুই ধাপে। এর আগে এক যুগ ধরে বন্ধ ছিল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ। আর এতেই বাড়ে সঙ্কট। যে সঙ্কট করোনা পরিস্থিতির সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সাধারণ টেকনোলজিস্টরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে গড়িমসি করছে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর। ফলে অনেকের পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হচ্ছে। কাজের প্রতি নিরুৎসাহিত হচ্ছেন অনেকে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের (বিএমটিপি) সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান বলেন, করোনার মতো বৈশি^ক মহামারিতে স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সঙ্কটের কথা ভেবে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষার অনুমতিসহ পরীক্ষার খরচ বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেয়। তবুও এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টালবাহানা করছে অধিদফতর। অথচ স্বল্পসময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ৬০০ নার্সিং পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করছে। অন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদের পরীক্ষাও শেষ করেছে করোনা মহামারিতে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এত কিছুর পরও মনে হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘুম ভাঙছে না। দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা যাতে মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে সেজন্য স্বেচ্ছাসেবকদেরও রাজস্ব খাতে নিয়োগ বাস্তবায়ন করা দরকার। গাইবান্ধার নিয়োগ প্রার্থী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আবির হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সার্কুলার আসার পরও স্বাস্থ্য অধিদফতর কালক্ষেপণ করছে। যার ফলে হাজার হাজার চাকরি প্রার্থীর বয়স চলে যাচ্ছে। এতে সবার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

কক্সবাজারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দীল মো. শাহা আলম বলেন, করোনা মহামারির মতো এমন দুর্যোগে প্রথম দিকেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের দরকার ছিল। অথচ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও এখনও পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। যা আমাদের জন্য খুব হতাশাজনক। ঢাকা মেডিকেলে কর্মরত টেকনোলজিস্ট নাসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ ছাড়া করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে আমাদের পড়াশোনার কনসেন্ট্রেশন নষ্ট হচ্ছে। তাই প্রয়োজন দ্রæত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

অধিদফতরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় মেডিকেল টেকনিশিয়ান পদে ৯ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৫০ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে ৫ ক্যাটাগরিতে ৮৮৯ জন অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৫৩৯ জন নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ছাড়া কার্ডিওগ্রাফার পদে ১৫০ জন নিয়োগের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় ২৯ জুন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) ৪৯৭ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) ১১৫, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ১১১, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি) ১১৩, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওথেরাপি) ৫৩; মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইসিজি) ৪৬০, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (অ্যানেসথেসিয়া) ৩০২, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালিসিস) ৩০২, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (বায়োমেডিকেল) ২১১, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইটিটি) ১২২, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (পারফিউশনিস্ট) ১, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইকো) ২৪৮, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (সিমুলেটর) ২, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (অর্থপেডিক্স) ২ এবং কার্ডিওগ্রাফার ১৫০ জন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে গেল ২৮ সেপ্টেম্বর শূন্যপদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার খরচ বাবদ অর্থের ছাড়পত্রও দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা এমসিকিউ বা লিখিত উভয় পদ্ধতিতে হতে পারে। কিন্তু অধিদফতরের কিছু জটিলতার কারণে পরীক্ষা নিতে দেরি হচ্ছে। অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ প্রসাশনের বিভিন্ন পদে পরিবর্তন আসার পর নিয়োগ কার্যক্রম দেরি হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ সময়ের আলোকে বলেন, শিগগিরই আমরা পরীক্ষা নিতে পারব। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আশা করছি চলতি মাসেই লিখিত পরীক্ষা নিতে পারব। তবে তিনি জানান, করোনার মধ্যে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগ হলেও এবার তা হবে না। নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই নিয়োগ দেওয়া হবে।

সৌজন্যে : সময়ের আলো।

আপনার মতামত দিন :