মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২০

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এবং রোগ নির্ণয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার তোপখানা রোড, ঢাকা বিএমএ ভবন শহীদ ডাঃ মিলন সভা কক্ষে দুপুর ১২ টায় অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) এর সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ, মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি জনাব ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএমএ’র মহাসচিব ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবু ইউসুফ ফকির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, সহ-কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগরের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্টবৃন্দ।

 

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) এর সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান। উক্ত সেমিনারে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক স্লাইড প্রেজেন্টেশন করেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বেলাল।

স্লাইড পদর্শনের পর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাকে কিভাবে আরো যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ণ করা যায় সেই বিষয়ে বক্তারা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা মহামারি এসে আমাদের অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা আসলে টিম ওর্য়াক ভিত্তিক কাজ। রোগ নির্ণয়ের কাজটি মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই করে থাকেন। কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অনেক দিকে বঞ্চিত। আপনাদের যত সমস্যা আছে সব স্মারকলিপি আকারে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখেন। উনি অবশ্যই সমাধান করবেন। আমি যদি ব্যক্তিগত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসতে পারি তাহলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের
সকল সমস্যা উপস্থাপন করবো। আর কমিউনিটি ক্লিনিকে যদি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পোস্ট ক্রিয়েট করা হয় সেবার পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি জনাব ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন বলেন, করোনা মহামারিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিশাল ভূমিকা ছিলো। কোভিড-১৯ এ আমরা অনেক কিছুই করতে পারিনি। পিপিই কাকে বলে উপলব্ধি করতে পারিনি। কোভিড-১৯ এ বিশ্ব যেখানে সেবা দিতে পারেনি সেখানে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেবা দিতে পেরেছি। যদিও সমন্বয়হীনতার কারণে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদেরকে আমরা তাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, টেস্ট আর টেস্ট বাড়াতে। কিন্তু আমরা তা বাড়াতে পারিনি। আমাদের সকলের কাজের সমন্বয় থাকতে হবে। আমরা ডাক্তার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট একসাথে কাজ করলে বাংলার মানুষ সেবা পাবে, দেশ এগিয়ে যাবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হবে।

বিএমএ’র মহাসচিব ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর রুপ পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা অনেক পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। সব সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ফলস্বরুপ। আসলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শুরুতে শষ্যতে ভুত ছিলো। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কি আগে জানতে হবে। শুধু প্রতিষ্ঠান গড়লে হবেনা। যন্ত্রপাতি কিনলে হবেনা। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানাতে হবে একজন চিকিৎসককে। যিনি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সমস্যা বুঝবেন, জানবেন। আপনাদের ১০ম গ্রেড ও চাকরি খুব প্রয়োজন। আপনারাই জীবন বাজী রেখে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে দেশকে ভালোবেসে করোনা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবু ইউসুফ ফকির বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে যদি ১ জন করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করা হয় রুটিন টেস্ট গুলো করে জনগণ সহজ সেবা পাবে এবং হয়রানির শিকার কম হবে। জনগণের অনেক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একটা দেশ সাজাতে হলে প্রত্যেক সেক্টরে জনবল দরকার। ডাক্তারদের রেশিও অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পোস্ট ক্রিয়েট করতে হবে। তাছাড়া একটা জনগোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এগিয়ে যেতে পারেনা।

সর্বশেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) এর সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ারের সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার শেষ হয়।

আপনার মতামত দিন :