করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া ফের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য করোনা নেগেটিভ সনদ ফের বাধ্যতামূলক করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর অংশ হিসেবে নেগেটিভ সনদ ছাড়া কোনো এয়ারলাইন্সের যাত্রী দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। সনদ ছাড়া যাত্রী পরিবহনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে এর দায়ভার বহন করতে হবে। এর আওতায় শাস্তিও ভোগ করতে হবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে। আজ শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

বেবিচকের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, শনিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ফলে দেশি-বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্স কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ ছাড়া কোনো যাত্রীকে বাংলাদেশে আনতে পারবে না। অর্থাৎ আজ (শুক্রবার) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে করোনামুক্ত সনদ ছাড়া বিশ্বের কোনো যাত্রী দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশে আসার আগে সব যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষায় তাদের করোনা নেগেটিভ এলে তবেই তারা বাংলাদেশে আসার অনুমতি পাবেন। বিমানবন্দরে সেই মেডিকেল সনদ দেখাতে হবে যাত্রীদের।

এরপর বিমানবন্দরে যাত্রীদের সবার তাপমাত্রা পরীক্ষাসহ মেডিকেল স্ক্রিনিং করা হবে। কারও মধ্যে করোনা লক্ষণ কিংবা উপসর্গ দেখা গেলে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও তাকে সরাসরি নির্ধারিত হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হবে। আরও যাদের মধ্যে উপসর্গ থাকবে না, তাদের বাড়ি ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি শ্রমিক, যাদের বিএমইটি কার্ড আছে, তারা যে দেশ থেকে আসবেন, সে দেশের পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা সহজলভ্য না হলে, তারা অ্যান্টিজেন বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার সনদ নিয়ে দেশে আসতে পারবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক মিশনগুলোর কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার সনদ থাকতে হবে এবং সেই পরীক্ষা যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করাতে হবে। বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আসতে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসতে হবে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যদি তাদের উপসর্গ না দেখা যায় এবং তারা যদি বাংলাদেশে ১৪ দিনের কম সময় অবস্থান করেন, তাহলে তাদের বাংলাদেশ ত্যাগ করার অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু ভাইরাসের উপসর্গ থাকলে তাদেরও পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার ও হাসপাতালে পাঠানো হবে।

তবে বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়, শিডিউল বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছাড়া রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ত্রাণ, মানবিক সাহায্য, প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কূটনৈতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে যাবেন, তাদের সে দেশ ও এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কোনো দেশে যাওয়ার জন্য করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক হলে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করাতে হবে।

বিমানবন্দরে কর্মরতদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা ছাড়াও যাত্রী, ক্রু, উড়োজাহাজ জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাহরাইন, চীন, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে চলাচল করা ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গন্তব্যে এখন সরাসরি ফ্লাইট নেই। সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, দুবাই, আবুধাবি, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যে ট্রানজিট হয়ে যাত্রীরা এসব গন্তব্যে যাওয়া-আসা করেন। ফলে এ নির্দেশনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গন্তব্যে চলাচল করা ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

তবে শিডিউল বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছাড়া রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ত্রাণ, মানবিক সাহায্য, প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কূটনৈতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন :