করোনার এন্টিজেন পরীক্ষা শুরু কাল

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

করোনাভাইরাস শনাক্তে বহুল প্রতীক্ষিত এন্টিজেন পরীক্ষা (র‌্যাপিড টেস্ট) শুরু হচ্ছে আগামীকাল শনিবার (৫ নভেম্বর)। প্রাথমিকভাবে ১০ জেলায় সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের বিনামূল্যে এই পরীক্ষা করা হবে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তীতে আরো ১০টি জেলায় পরীক্ষা চালু হবে। এভাবে ধাপে ধাপে সারাদেশে এন্টিজেন পরীক্ষা শুরু করবে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গবেষণা ও উন্নয়ন) ও এন্টিজেন পরীক্ষা বিষয়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ১০ জেলায় পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা চলে গেছে। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওই ১০ জেলার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা এন্টিজেন কিট নিয়ে নিজ নিজ জেলায় চলে গেছেন।

জেলাগুলো হলো: মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, যশোর, পটুয়াখালী ও মাদারীপুর। প্রতি জেলা থেকে একজন চিকিৎসক, একজন টেকনোলজিস্ট এবং একজন পরিসংখ্যানবিদকে এ পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এই ১০ জেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তীতে আরো ১০টি জেলায় পরীক্ষা চালু করা হবে। এভাবে ধাপে ধাপে সারাদেশে এন্টিজেন পরীক্ষা শুরু করা হবে।

এর আগে ২৫ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছিলেন, যেসব এলাকায় কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার জন্য আরটিপিসিআর মেশিন নেই, কিন্তু করোনার সংক্রমণ বেশি সেই ১০টি এলাকায় এন্টিজেন পরীক্ষা শুরুর জন্য নির্ধারণ করা হবে।

পাঁচ থেকে সাতদিন ধরে যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ, যেমন: জ্ব, কাশি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, স্বাদ ও গন্ধ না পাওয়ার মতো উপসর্গগুলো আছে প্রাথমিকভাবে তাদের এন্টিজেন পরীক্ষা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেরিতে শুরু হলেও এন্টিজেন পরীক্ষা করোনা রোগী শনাক্ত, মহামারিতে নেওয়া পরিকল্পনাসহ নানা নীতিনির্ধারণে সাহায্য করবে। তবে এই পরীক্ষা চালু হলেই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে যাবে এমন ভাবনা সঠিক নয়। কারণ এই পরীক্ষার একটা বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, লক্ষণ উপসর্গ না থাকলে এন্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট হবে ‘ফলস নেগেটিভ’। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা যেভাবে এন্টিজেন পরীক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের এন্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল ‘পজেটিভ’ হবে তাদের ‘পজেটিভ’ রোগী হিসেবে ধরা হবে। যাদের নেগেটিভ রিপোর্ট আসবে তাদের আরটিপিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। তাই এন্টিজেন পরীক্ষা আরটিপিসিআর পরীক্ষার সহায়ক নয়।

অ্যান্টিবডি কিটের মাধ্যমে সব সময় সঠিক ফল আসে না জানিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, এগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই ‘ফলস নেগেটিভ’ (False negative) রিপোর্ট আসে।

দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর এন্টিজেন পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ মার্চ মুঠোফোনে তিনি মেডিভয়েসকে আরও বলেছিলেন, এ প্রক্রিয়ার উপর ওপর নির্ভরশীল হলে ভুল রিপোর্টের কারণে কোনো ব্যক্তি নিজেকে করোনা নেগেটিভ মনে করে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবেন আর তার মাধ্যমে দ্রুত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাবে। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের দ্রুততম পরীক্ষা হচ্ছে এন্টিজেন পরীক্ষা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভায় আরটিপিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্ট কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে গত ৫ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এন্টিবডি ও এন্টিজেন সম্পর্কিত নীতিমালার খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ২৪ জুলাই এন্টিজেন টেস্টকে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

আপনার মতামত দিন :