ক্যাডার বৈষম্য নিরসনে প্রকৃচির ১৬ দফা

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২০

বিদ্যমান আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য নিরসন ও কৃত্যপেশাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পেশাজীবীদের অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে পেশাজীবী বিসিএস ক্যাডারদের সংগঠন প্রকৌশলী-কৃষিবিদ ও চিকিৎসক (প্রকৃচি)।

আজ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রকৃচি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা.মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী এতে মূল কার্যপত্র উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ দেয়ার সাথে সাথে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে Service Reorganization & Condition Act, 1975 প্রণয়ন করেছিলেন। এই  ‘Act’ এ সকল চাকুরীর সমান মর্যাদা এবং বেতন বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই  ‘Act’টি যুগোপযোগী না করে আমলাতন্ত্র সুকৌশলে এটাকে নিজেদের সুবিধার্থে পরিবর্তন করে নিয়েছেন। জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ডের পর সুপরিকল্পিতভাবে সেই লক্ষ্যকে ভুলন্ঠিত করে উপনিবেশিক আমলা নির্ভর ভাবধারায় গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা।’

ক্যাডার বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বিএমএ মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতাত্তোর বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে টেকনিক্যাল ক্যাডারের সাতজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদায়ন করে দেশের উন্নয়নের ধারাকে গতিময় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে টেকনিক্যাল জ্ঞানশূন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যমান অবস্থায়ও সচিব পদে যেকোন ক্যাডার কর্মকর্তার নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও শুধুমাত্র ক্যাডার বৈষম্যের কারণে আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব পদ সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পেশার কর্মকর্তা দ্বারা পূরণ হওয়ার ঘটনা বিরল। ফলে টেকনিক্যাল পদগুলোতে টেকনিক্যাল জ্ঞানশূন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়নের ফলে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং পেশাজীবীদের ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে, এতে সরকারের গতিশীল উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে।’

এছাড়াও ইদানিং পেশাজীবীদের অবদানের স্বীকৃতির বদলে একটি মহল পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত এবং সাম্প্রতিককালে জনপ্রশাসন পেশাজীবীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী ইত্যাদির ক্ষেত্রে অনধিকার হস্তক্ষেপ করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

পেশাজীবীদের ১৬ দফা দাবি সমূহ:

১. কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

২. প্রশাসনের সকল স্তরে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৩. সকল দপ্তর ও অধিদপ্তরের নিয়মিত শূন্য পদ পূরণ করা সহ প্রশাসন ক্যাডারের ন্যায় পদোন্নতির যোগ্য হওয়ার সাথে সাথে পেশাজীবীদের পদোন্নতি দিতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন সংস্থার পেশাজীবীদের সুপার নিউমারী পদোন্নতির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৪. পেশাজীবী ক্যাডার পদ সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রশাসন ক্যাডারের ন্যায় আনুপাতিক হারে ‘গ্রেড-১’ ও তদানুযায়ী ‘গ্রেড-২’ ও গ্রেড-৩’ এর পদ সংখ্যা নির্ধারন করে পদ সৃজন করতে হবে। প্রত্যেকটি পেশার ক্যাডার সংখ্যার আনুপাতিক হারে সিনিয়র সচিব সমমান পদ সৃজন করতে হবে।

৫. কয়েকটি সংস্থার শীর্ষপদ গ্রেড-১ এ উন্নীত হয়েছে কিন্তু অন্যান্য সার্ভিসের ন্যায় নি¤œধাপের সমপর্যায়ের পদসমূহ যথাক্রমে গ্রেড-২, গ্রেড-৩ এবং গ্রেড-৪ এ উন্নীত করা হয়নি। তাই দ্রুত এসকল নি¤œ ধাপের পদগুলোর গ্রেড উন্নীত করে প্রকৌশল, স্বাস্থ্য এবং কৃষি সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল অধিদপ্তর/সংস্থাসমূহের শীর্ষপদকে গ্রেড-১ এ উন্নীত করতে হবে।

৬.  প্রশাসন ক্যাডারের ন্যায় অন্যান্য ক্যাডারের সম-স্কেল/গ্রেডের কর্মকর্তাদের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. উপ-সচিব ও তদুর্ধ্ব পদে অন্যান্য ক্যাডারের সমানুপাতিক অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রকল্পে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান/অধিদপ্তর/সংস্থার ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে প্রশাসন ক্যাডার/ অন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের পদায়ন বন্ধ করতে হবে। ইত্যবসরে যেসকল পদে পদায়ন করা হয়েছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

১০. পেশাজীবী ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের গ্রেড অনুযায়ী পদসমূহকে ডধৎৎধহঃ ড়ভ চৎবপবফবহপব এ যথাযথ স্থান প্রদান করতে হবে।

১১. প্রতি বছর ন্যূনতম তিনবার বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) ও এসএসবির ব্যবস্থা করতে হবে এবং এসএসবি ও ডিপিসি তে টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

১২. টেকনিক্যাল ক্যাডারে কর্মরত কর্মকর্তাদের পেশার উৎকর্ষতা সাধনে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ক্যাডার কর্মকর্তাদের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

১৩. গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন-এর ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর/সংস্থা প্রধানদেরকে প্রদান করতে হবে।

১৪. সরকারের যেকোন প্রয়োজনে প্রকৌশল, কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন কার্যক্রম (পুনর্বাসন, প্রণোদনা, ভর্তুকি, পরিদর্শন ও উদ্ভাবন ইত্যাদি) বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে অযাচিতভাবে স্থানীয় ডিসি/ইউএনও সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর/সংস্থার টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৫. কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধান আজ সময়ের দাবী। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ন্যায় সকল ক্যাডারের   কর্মকর্তাদের পদ অনুযায়ী সমান নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

১৬. পেশাজীবীদের স্ব-স্ব পেশার দাবী সমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এছাড়াও আলাদা আলাদা ভাবে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসক পেশা সংশ্লিষ্টরা তাঁদের অন্যান্য দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃচি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য কৃষিবিদ এম এম মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ, বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ , ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, প্রকৌশলী এস এম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু , প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু) , কৃষিবিদ মুকসুদ আলম খান মুকুট, প্রকৌশলী প্রতীক কুমার ঘোষ ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন :