ওয়েবসাইটশূন্য অনেক মেডিকেল কলেজ

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২০

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশেষত শিক্ষা খাতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে গ্রহণ করা হয়েছে নানাবিধ প্রদক্ষেপ। করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসসহ একাডেমিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় এ উদ্যোগের ফল এখন বেশ ভালোভাবেই দৃশ্যমান। তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে।

সারাদেশের মোট ৩৭টি সরকারি মেডিকেলের মধ্যে অন্তত ১০টির কোন ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। বাকিদের ওয়েবসাইট থাকলেও ঢাকা মেডিকেল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মতো কিছু মেডিকেল কলেজ ছাড়া অধিকাংশ কলেজের রয়েছে নামে মাত্র ওয়েবসাইট। এসব সাইটে ফলাফল প্রকাশ তো দূরে থাক ফ্যাকাল্টি বা শিক্ষকদের তালিকা বা ফোন নম্বর পর্যন্ত নেই। এমনকি চট্টগ্রাম ও খুলনা মেডিকেলের মতো ঐতিহ্যবাহী মেডিকেলের সাইটেও নেই পর্যাপ্ত তথ্য।

বিভাগ ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের সাত জেলায় মোট ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলসহ ছয়টি কলেজের তথ্যবহুল ওয়েবসাইট থকলেও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।  টাঙ্গাইল মেডিকেল ও গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের কোনো ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে পাঁচটি কলেজের মধ্যে কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটি মেডিকেল ছাড়া বাকিদের ওয়েবসাইট থাকলেও নেই পর্যাপ্ত তথ্য। এর মধ্যে নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। মজার বিষয় হলো, নতুন প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট থাকলেও ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেডিকেলের রয়েছে নাম সর্বস্ব ওয়েবসাইট।

খুলনা বিভাগের পাঁচটি মেডিকেলের মধ্যে খুলনা, মাগুরা ও যশোর মেডিকেলের ওয়েবসাইট থাকলেও তথ্যের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। খুলনা মেডিকেলের সাইটে কোন তথ্য নেই। এছাড়া সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া মেডিকেলের কোন সাইট পাওয়া যায়নি।

খুলনা মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট

ময়মনসিংহ বিভাগের তিনটির মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেলের একটি সমৃন্ধ ওয়েবসাইট থাকলেও জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল ও নতুন প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোনা মেডিকেলের কোনো সাইট নেই। রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি মেডিকেলের ওয়েবসাইট থাকলেও রাজশাহী মেডিকেলসহ পাঁচ মেডিকেলের সাইটে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং নওগাঁ মেডিকেলের নাম সর্বস্ব সাইট রয়েছে।

সিলেটের তিন মেডিকেলের মধ্যে হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিকেল ও নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ মেডিকেলের সাইট পাওয়া যায়নি। অপরদিকে সিলেটের এমএজি  ওসমানী মেডিকেলের সাইটে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এছাড়া বরিশাল বিভাগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ওয়েবসাইট থাকলেও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের কোনো সাইট নেই।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ওয়েবসাইট আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের তথ্যবহুল ওয়েবসাইট রয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইট অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমরা আরও আপ টু ডেটে কাজ করে যাচ্ছি। অনেক মেডিকেলের ওয়েবসাইট না থাকার বিষয়টি জেনে রাখলাম এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।’

ওয়েবসাইটের বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সম্প্রতি করা হয়েছে। এর আগেই অনেক মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট ছিলো। কলেজগুলো তাঁদের নিজ উদ্যোগেই ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। তবে যেসব মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট নেই বা থাকলেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই সেসব মেডিকেল কলেজের বিষয়ে অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

এ সময় করোনায় ডিজিটাল পদ্ধতির সুফলের কথা উল্লেখ করে ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘করোনায় সারাদেশের শিক্ষা খাতের মতো স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় আমরা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মেডিকেল শিক্ষাকে একটি অবস্থায় নিতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ করার জন্য। আমরা অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম চালু রেখেছি এবং শিক্ষার্থীরাও খুশি মনে ক্লাস করে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মেডিকেলেই ক্লাসগুলো চলমান আছে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান বলেন, ‘সরকার তথ্য-প্রযুক্তির বিষয়ে অনেক বেশি আন্তরিক। এটি সরকারের একটি এজেন্ডা। এ বিষয়ে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা এবং উৎসাহ রয়েছে। আমরা পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরিতে গুরুত্বারোপ করছি। ইতিমধ্যে সাইট ডেভলপের জন্য অর্থ ছাড় দিয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। খুব শিগগিরই তথ্যবহুল ওয়েবসাইট পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, চমেকে করোনাকালে অনলাইনে ক্লাসসহ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশন যেহেতু সরকারের একটি এজেন্ডা, তাই এটি বাস্তবায়ন করাও সকলের দায়িত্ব।

আপনার মতামত দিন :