লক্ষ্মীপুরে নৌকার নতুন মাঝি মাসুমকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আ.লীগ

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২১

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র পদে আবু তাহেরের পরিবর্তে এবার মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়াকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মাসুম নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে একাধিকবার আনন্দ মিছিল করেছে। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে কাজও শুরু করেছে। আজ (সোমবার) বিকালে জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল এলাকায় মাসুমের সমর্থনে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। মাসুমের মনোনয়ন নিয়ে পৌরবাসীও উদ্দীপনায় মেতেছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মেয়র প্রার্থীর নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবু তাহের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। নেতারা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তাহের দলীয় সমর্থনে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুইবারসহ তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র নিয়ে তাহের দলীয় নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতি অর্থবছর অস্বাভাবিক হারে কর বাড়িয়েছেন। পানি সরবরাহ সঠিকভাবে করতে না পারলেও প্রতিমাসে বিল আদায় করেছেন। এসব নিয়ে জনপ্রিয়তা হারান তিনি। তার মেজো ছেলে জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তাহের পরিবারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ১০ ডিসেম্বর তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে মেয়র তালিকায় মাসুম ভূঁইয়াকে প্রথমে রেখে ১০ জনের নাম পাঠানো হয়। সেখানে আবু তাহেরের নাম দেয়নি জেলা কমিটি। একইদিন তাহেরকে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেওয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠিও দেন আওয়ামী লীগের নেতারা। নৌকার মনোনয়ন পাওয়া মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আগেও এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। করোনাকালে দলীয় নির্দেশে অসহায়দের পাশে ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। জয়ী হয়ে লুক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আবু তাহেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনা আসেন। কয়েক বছর তিনি কারাগারেও ছিলেন।

 

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত দিন :